বছরের শুরুতেই অভিনেত্রীর দুই চোখে অন্ধকার! মাকে হারালেন কাঞ্চনা মৈত্র! মাতৃহা’রা হয়ে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী!

নতুন বছরের শুরুতে যখন চারদিকে উৎসবের আবহ, ঠিক তখনই ব্যক্তিগত জীবনে গভীর শোকের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র। জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা ও শক্তির জায়গা ছিলেন তাঁর মা। সেই মানুষটিকেই হঠাৎ হারিয়ে যেন সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাঞ্চনার মা। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার ও কাছের মানুষজন।
মায়ের শেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে আজকাল ডট ইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাঞ্চনা জানান, আগের রাত পর্যন্ত সবকিছুই ছিল একেবারে স্বাভাবিক। মা মেয়ে দুজনে গল্প করছিলেন, হাসছিলেন। কোনও অসুস্থতার ইঙ্গিতও ছিল না। কিন্তু ভোরের দিকে হঠাৎই মায়ের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। বুক ভারী লাগছিল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও তার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি অভিনেত্রী।
কথা বলতে বলতে বারবার ভেঙে পড়েছেন কাঞ্চনা। তিনি জানান, সেদিন রাতেই মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁর আসন্ন ছবির প্রমোশনে কী পোশাক পরা উচিত। মা বরাবরের মতোই ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন, তাড়াহুড়ো না করতে উপদেশ দিয়েছিলেন। সেই সাধারণ কথোপকথনই যে শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা ভাবতেই পারছেন না তিনি। কাঞ্চনার কথায়, মাকে ছাড়া তাঁর জীবন এখন সম্পূর্ণ শূন্য।
প্রসঙ্গত, মৃত্যুকালে কাঞ্চনার মায়ের বয়স হয়েছিল বাহাত্তর বছর। কাঞ্চনা ছিলেন তাঁর একমাত্র সন্তান। এর আগেই ২০১৪ সালে বাবাকে হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী। বাবা মায়ের দুজনকেই হারিয়ে এখন কার্যত একা তিনি। তবুও মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে নিজেকে সামলে আবার কাজে ফেরার ইচ্ছের কথাও জানিয়েছেন কাঞ্চনা।
আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদের গুঞ্জনের মাঝেই সুখী দাম্পত্যের পাঠ! দেখতে দেখতে ১০ বছর পার! সংসারে সুখী থাকতে কোন সমীকরণে বিশ্বাসী রাজা মধুবনী?
বর্তমানে ছোটপর্দা ও বড়পর্দা দুই মাধ্যমেই কাজ করছেন কাঞ্চনা মৈত্র। এই মুহূর্তে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ও মন দরদিয়া ধারাবাহিকে। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর ছবি কপাল ২। গত বছর মুক্তি পাওয়া কপাল ছবির প্রমোশনে তাঁকে নিয়ে চর্চাও কম হয়নি। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও কাজের প্রতি দায়িত্ববোধই আপাতত তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি জোগাচ্ছে।

