‘ওর কাছে ওর মায়ের কথা আমার চাইতে অনেক আগে’ ‘আমার মাকে ছাড়তে হবে কারণ আমার মা দেখতে ভালো না…প্রবাহকে রেজিস্ট্রি করতে বারণ করেছিল নাহলে ওর সব টাকা আমি পেয়ে যাব!’ হাসপাতাল থেকে ফিরেই বিস্ফোরক দেবলীনা নন্দী!

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) গায়িকা দেবলীনা নন্দীকে (Debolina Nandy) নিয়ে রীতিমতো ঝড় বইছে। চলতি বছর বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে তার বিস্ফোরক ফেসবুক লাইভ এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নেটিজেনদের দুই শিবিরে ভাগ করে দিয়েছে। দেবলীনা এবং তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের সুখী দাম্পত্যের প্রচুর ভ্লগ ও ছবি শেয়ার করতেন। কিন্তু লাইভে দেবলীনা যখন ফাঁস করেন যে তাঁদের এই সুখী ছবিগুলো আসলে মিথ্যে এবং ভেতরে ভেতরে তিনি চরম অশান্তিতে ছিলেন, তখন সকলেই প্রায় মানসিকভাবে ধাক্কা খান।

লাইভ শেষ করার পরপরই দেবলীনা প্রায় ৭৮টি কড়া পাওয়ারের ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই খবরটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হয়ে ওঠে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং কীভাবে তিনি এতগুলো ওষুধ সংগ্রহ করলেন, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এই নিয়েই বর্তমানে উত্তাল নেটপাড়া। হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর বাড়ি ফিরেছেন গায়িকা। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর তিনি এখন তাঁর মায়ের কাছে আছেন। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকলেও তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ও গানে ফেরার চেষ্টা করছেন।

তবে হাসপাতাল থেকে ফিরেই আবারো লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ধরা দিয়েছেন তিনি। ১ ঘণ্টার দীর্ঘ একটি লাইভ ভিডিওতে দেবলীনা এতদিন তার সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এত প্রশ্ন ট্রোল সবকিছুর জবাব দিয়েছেন দেবলীনা। নিজের সম্বন্ধে শোনা সমস্ত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন। বিবাহিত জীবনে স্ত্রী হিসেবে তিনি যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। তাঁর দাবি, প্রবাহ সবসময়ই তাঁর মা এবং নিজের পেশাকে দেবলীনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। দেবলীনা যখন অসুস্থ থাকতেন বা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতেন, তখনও প্রবাহ তাঁর পাশে না থেকে নিজের কাজ বা মায়ের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিতেন। দেবলীনা লাইভে বলেন, ‘ওর কাছে ওর কাজ আর ওর মায়ের কথা আমার চাইতে অনেক আগে, আমার যা খুশি হয়ে যাক ওর কাছে ওই দুটো জিনিসের মূল্য অনেক বেশি’।

দেবলীনার দাবি অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রবাহ তাঁর শাশুড়িকে পছন্দ করতেন না। কারণ তিনি তথাকথিত ‘সুন্দরী’ নন। একজন শিক্ষিত পাইলট হয়েও প্রবাহ এমন মন্তব্য করেছেন বলে দেবলীনা দাবি করেন। তাঁর মা সাধারণ ঘরের মানুষ হওয়ায় হয়তো আভিজাত্যের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন না, আর এটাই ছিল প্রবাহের আপত্তির জায়গা। দেবলীনার মাকে নিয়ে শুরু থেকেই অসুবিধা ছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু ভিডিওতে সেটা কখনই বুঝতে দিতেন না দেবলীনা।

দেবলীনা একজন সফল গায়িকা, এবং তাঁর কেরিয়ারের শুরু থেকেই তাঁর মা ছায়ার মতো তাঁর সঙ্গে থেকেছেন, তাঁর শো এবং কাজ সামলেছেন। বিয়ের পর তাঁর শাশুড়ি দেবলীনার গানের অনুষ্ঠানের সমস্ত ম্যানেজমেন্ট বা দেখভালের দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে চেয়েছিলেন। এটি কেবল সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং দেবলীনার পেশাগত জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার একটি চেষ্টা হিসেবে তিনি দেখেছেন। দেবলীনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর মা কঠিন সময়ে তাঁর কেরিয়ার গড়েছেন, তাই সফল হওয়ার পর মাকে সেই জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। দেবলীনা লাইভে বলেন, “সমস্যাটা শুরু হলো সেদিন থেকে, যেদিন প্রবাহর মা বলল আমার সমস্ত শো এর ম্যানেজমেন্ট তিনি নিজে করবেন। আমি বলেছিলাম চাইলে তোমরা সবাই চলো কিন্তু আমার মা এতদিন এই সবটা দেখে এসছে আর এই মুহূর্তে আমি আমার মাকে সরাতে পারবো না এই জায়গা থেকে।” দেবলীনা পরিবারকে সাথে নিয়ে চলতে চাইলেও, তাঁর শাশুড়ি সম্ভবত চেয়েছিলেন দেবলীনার মা-কে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে।

আরও পড়ুনঃ অ’গ্নিদগ্ধ শিল্পীর মন্দির! থিয়েটারে আ’গুন! বিতর্কে উত্তাল নেটপাড়া! বছরের শুরুতেই টলিপাড়ায় অ’শনি সংকেত!

এছাড়াও দেবলীনা বলে, ‘প্রবাহর মা, প্রবাহকে রেজিস্ট্রি করতে বারণ করেছিল কারণ যদি প্রবাহ মরে যায় তাহলে ওর সব টাকা আমি পেয়ে যাব।’ দেবলীনার দাবি অনুযায়ী, তাঁর শাশুড়ি ভয় পেয়েছিলেন যে যদি তাঁদের আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়, তবে আইনের চোখে দেবলীনা প্রবাহের বৈধ উত্তরাধিকারী হয়ে যাবেন। এই আর্থিক কারণেই তাঁর শাশুড়ি প্রবাহকে রেজিস্ট্রি করতে বাধা দিয়েছিলেন। দেবলীনার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর শাশুড়ি মনে করতেন দেবলীনা হয়তো প্রবাহের সম্পত্তির লোভে বিয়ে করেছেন। প্রবাহ পেশায় একজন পাইলট হওয়ায় তাঁর জীবন বিমা বা সম্পত্তির পরিমাণ অনেক, যা আইনিভাবে রেজিস্ট্রি বিয়ে হলে স্ত্রীর প্রাপ্য হতো। ২০২৪ সালে ধুমধাম করে সামাজিক অনুষ্ঠান (সাতপাক) হলেও প্রবাহের পরিবার কৌশলে আইনি রেজিস্ট্রেশন এড়িয়ে গেছে। যাতে ভবিষ্যতে বিচ্ছেদ হলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দেবলীনা কোনো আইনি বা আর্থিক দাবি করতে না পারেন। আর দেবলীনার এই ভিডিও ঘিরে আবারো উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

Back to top button