‘এতই যদি চিন্তা নিজেই আসতিস দেখতে…ন্যাকামো করতিস না’ দেবলীনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্বে ভাঙন! সর্বসমক্ষে অলকানন্দার সঙ্গে বিতর্কে জড়ালেন সায়ক! ‘সুকান্ত প্রেরণা এদেরতো ডেকে আনতে হয়নি!’ অভিনেতাকে পূর্ণ সমর্থন দর্শকদের!

সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) গ্ল্যামার আর গানের সুরের পেছনে যে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, গায়িকা তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েনসার দেবলীনা নন্দীর (Debolina Nandy) সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি যেন তারই এক উদাহরণ। পেশাগত জীবনে যখন তিনি সাফল্যের সিঁড়ি চড়ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ২০২৬-এর শুরুতেই জানুয়ারি মাসে এক দীর্ঘ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দেবলীনা তাঁর যন্ত্রণার কথা নেটিজেনদের জানান। তাঁর সেই লাইভটিতে তিনি তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
তাঁর অভিযোগের মূল কেন্দ্রে ছিল ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং পরিবারের সাথে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা। কথা বলতে বলতেই তিনি বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যা মুহূর্তেই ডিজিটাল দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করে। দেবলীনার দিদি এবং পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। এই বিপুল সংখ্যক ওষুধ একজন মানুষের পক্ষে একসাথে খাওয়া এবং তারপরেও বেঁচে থাকা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন সাধারণ মানুষের কাছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এত ওষুধ কীভাবে এল?
দেবলীনা নন্দীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পর হাসপাতালে তার পরিচিত আত্মীয় স্বজন তাকে দেখতে যায়। হাসপাতালে যখন দেবলীনা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছায়ার মতো দেখা গেছে তাঁর বন্ধু অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে। সায়কই প্রথম ব্যক্তি যিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেবলীনার এই চরম পদক্ষেপের কথা সবাইকে জানান। এছাড়াও অভিনেত্রী প্রেরণা ভট্টাচার্যও হাসপাতালে ছুটে যান দেবলীনার এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে। অন্যদিকে অভিনেত্রী অনন্যা গুহর সাথে সম্পর্কের কারণে পরিচিত সুকান্ত কুণ্ডুও সায়ক ও প্রেরণার সাথে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। আর এর মধ্যেই শুরু হয় বিতর্ক। বিতর্ক সৃষ্টি হয় অভিনেত্রী তথা অনন্যার দিদি অলকানন্দাকে ঘিরে।
দেবলীনা নন্দীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় হাসপাতালে তাঁর বন্ধুদের ভিড় এবং সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহর একটি ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বন্ধু সায়ক চক্রবর্তী বা সুকান্ত কুণ্ডু কেউই তাঁকে দেবলীনা কোন হাসপাতালে ভর্তি সেই বিষয়ে কোনো খবর দেননি। দেবলীনাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন দর্শকরা অলকানন্দার দিকে ছুড়ে দিয়েছিলেন। তারপরই ভিডিওর মাধ্যমে অভিনেত্রী জানান তাকে হাসপাতালের নামটা পর্যন্ত জানানো হয়নি, যাওয়ার কথাও বলা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ধারাবাহিকের চাপ সামলে ১৪ ঘণ্টা শুটিংয়ের পর মেয়ের কাছে ফেরেন “কুন্তলিনী”! ছোট্ট মীরাকে কিভাবে আগলে রাখেন অহনা?
অভিনেত্রীর এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন সায়ক, সুকান্তরা। সায়ক ফেসবুকেই কমেন্টে লেখেন, ‘আজব ন্যাকা কেন রে তোর নিজের হাত পা নেই? আমি নিয়ে যাইনি মানে? বাচ্চা নাকি? এতই যদি চিন্তা করতিস তো চলেই যেতিস নিজে।’ সুকান্ত কুণ্ডুও বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন যে, ‘এটা কোনও ইভেন্ট নয় যে কাউকে ইনভাইট করে নিয়ে যেতে হবে। সায়ক কাউকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেয়নি। আমরা সকলেই যে যার মতো গেছি।’ এই নিয়েই এখন চলছে বিতর্ক। এই ব্যক্তিগত স্তরের ঝগড়া প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা কেউ কেউ অলকানন্দার পক্ষে কথা বলছে আবার কেউ সায়ক সুকান্তকে সাপোর্ট করছেন।

