‘কে যেন গলা টিপে ধরত’, ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পরেই কি এই ভয়ের অভিজ্ঞতা? কি হয়েছিল সেই রাতে? জানালেন হেমা মালিনী!

স্বামী ধর্মেন্দ্রকে হারিয়ে এখন গভীর শোকের মধ্যেই দিন কাটছে বলিউডের ড্রিম গার্ল হেমা মালিনীর। জীবনের এই কঠিন সময়ে অতীতের বহু স্মৃতি যেন একে একে ফিরে আসছে তাঁর মনে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সাফল্য আর খ্যাতির শিখরে পৌঁছলেও শুরুর দিনগুলো মোটেই সহজ ছিল না অভিনেত্রীর জন্য। চেন্নাইয়ের স্বচ্ছল জীবন ছেড়ে মায়ানগরী মুম্বইয়ে পা রাখার পর তাঁকে লড়তে হয়েছে বাস্তবের নানা কঠিন পরীক্ষার সঙ্গে। শুধু কাজের সংগ্রাম নয়, সেই সময় মানসিকভাবে তাঁকে তাড়া করেছিল এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতাও।

হেমা মালিনী নিজের আত্মজীবনী হেমা মালিনী বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল বইয়ে সেই সময়ের কথা খোলাখুলি লিখেছেন। অভিনয় জীবনের একেবারে শুরুর দিকে তিনি বান্দ্রার একটি ছোট ফ্ল্যাটে থাকতেন। তখনও ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়নি। কাজের চাপ আর অনিশ্চয়তার মাঝেই রাত নামলেই শুরু হত এক অজানা আতঙ্ক। হেমার কথায়, প্রায় প্রতিদিন রাতেই তাঁর মনে হত কেউ যেন এসে তাঁর গলা টিপে ধরছে। ঘুম ভেঙে যেত আতঙ্কে আর শ্বাস নিতে কষ্ট হত।

এই ভয় এতটাই প্রকট ছিল যে তাঁর মা রাতের পর রাত মেয়ের পাশে শুয়ে থাকতেন। মায়ের চোখের সামনেই ভয় পেয়ে কাঁপতেন হেমা। তিনি নিজেই লিখেছেন, যদি এক দুদিন এমন হত তবে হয়তো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেন না। কিন্তু দিনের পর দিন একই অভিজ্ঞতা হতে থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে সেই ছোট ফ্ল্যাট যেন তাঁর কাছে ভয় আর অস্বস্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাহীনতা তাঁকে ভিতর থেকে নড়িয়ে দিয়েছিল।

এই পরিস্থিতির পরেই মুম্বইয়ে নিজের একটি বড় বাড়ির খোঁজ শুরু করেন অভিনেত্রী। তাঁর বিশ্বাস ছিল, পরিবেশ বদলালেই হয়তো এই অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। পরবর্তীকালে ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি জুহুর সমুদ্রমুখী বাংলোয় থাকা শুরু করেন। সবুজ গাছপালায় ঘেরা সেই শান্ত বাড়িতেই ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরে আসে তাঁর জীবনে। ভয় আর অশান্তির রাতগুলো পেছনে পড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘২৩-২৪ বছর বয়সে কেউ বিয়ে করে নাকি? যারা করছে তাদের ডিভোর্স হয়ে…’ সহঅভিনেত্রী অনন্যার দিকেই কি ইঙ্গিত করলেন মিঠাই খ্যাত সৌমি?

আজ সেই জুহুর বাংলোতেই জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন হেমা মালিনী। সাফল্যের ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ভয়ের গল্প তাঁর জীবনের আর এক অজানা অধ্যায়। স্বপ্নের শহরে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যে মানসিক লড়াই তাঁকে লড়তে হয়েছিল, তা এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ড্রিম গার্লের জীবনের এই অন্ধকার রাতগুলো আজও পাঠকদের শিউরে ওঠার মতো।

Back to top button