‘বাবার বারণ শুনে জেদ চেপে গিয়েছিল, আমি তাই…’- বাবার কোন কথা মানেননি অভিনেতা? বিমানের বন্ধুত্বের উষ্ণতা! জোজোর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমে আচ্ছন্ন বিশ্বনাথ!

শীতের সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মুহূর্ত ধরা পড়ে যা মনটা নিমেষে ভালো করে দেয়। ঠিক তেমনই এক ছবি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। বিমানের সিটে বসে শিল্পী জোজোর কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত ঘুমে আচ্ছন্ন তিনি। দুই ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির দুই জনপ্রিয় মুখ হলেও তাঁদের বন্ধুত্ব বহুদিনের। সেই সম্পর্কেরই এক ঝলক ধরা পড়েছে এই ছবিতে। অনুরাগীরা তো বটেই বহু তারকাও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এই পোস্ট।
এই মুহূর্তের নেপথ্যে রয়েছে টানা কাজের ব্যস্ততা। শীতের কার্নিভালে একসঙ্গে জুটি বেঁধে পারফর্ম করছেন জোজো ও বিশ্বনাথ। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে তাঁদের শো। মোট নয়টি অনুষ্ঠানের মধ্যে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার থেকে ফেরার পথেই বিমানে তোলা হয় এই ছবি। ক্যাপশনে বিশ্বনাথ লেখেন যে সাতসকালের বিমানে জোজোর কাঁধ ছিল সবচেয়ে আরামদায়ক বালিশ। সহজ সরল এই কথাতেই ফুটে উঠেছে গভীর বন্ধুত্বের উষ্ণতা।
এই ছবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বনাথ জানান সিট ঠিকমতো সেট করা যাচ্ছিল না। তখন পাশেই বসেছিলেন জোজো। তাই আর দেরি না করে বন্ধুর কাঁধেই ভরসা রেখেছিলেন তিনি। চোখ বুজে একটু ঘুমিয়ে নেওয়াই ছিল তখন সবচেয়ে সহজ সমাধান। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি আর সঙ্গীর আপন উপস্থিতি মিলিয়ে সেই মুহূর্ত হয়ে উঠেছিল বিশেষ। বন্ধুদের সঙ্গে এমন নির্ভার সময় কাটানোই কাজের চাপে ভরা জীবনে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।
জোজোর প্রতি বিশ্বনাথের অনুরাগ নতুন নয়। স্কুলজীবনের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল সেই দিনগুলির কথা। ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একবার জোজোর গান শুনতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাবার বাধায় সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি। বন্ধুরা ফিরে এসে শোয়ের গল্প বলত আর তাঁর মন আরও খারাপ হয়ে যেত। তখনই মনে জেদ চেপেছিল একদিন জোজোর গান অবশ্যই দেখবেন। আজ সেই স্বপ্নের মানুষই তাঁর বন্ধু।
আরও পড়ুনঃ রুক্মিণীর চোখের সামনেই মা’রা যাবে গোপাল! ভেঙে যাবে দর্শকদের প্রিয় জুটি! এই মর্মান্তিক পরিণতিতে কোন দিকে মোড় নেবে পরিণীতার গল্প?
এখন এক মঞ্চে পারফর্ম করতে পারা বিশ্বনাথের কাছে স্বপ্নের মতো। তিনি বলেন জোজোর পারফর্ম্যান্স সবসময় শিক্ষণীয়। নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে যাঁদের তিনি লেজেন্ড মনে করেন তাঁদের মধ্যে জোজো একজন। চোখ বন্ধ করে সে কথা বলতে পারেন বিশ্বনাথ। বন্ধুত্ব আর সম্মানের এই সম্পর্কই তাঁদের যুগলবন্দিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।

