‘মায়া বড় জটিল বিষয়, এমনিতেই আমার জীবনটা…’- ২০২৫-এর শেষ প্রান্তে কি শিক্ষা পেলেন পৌষালী? কেন জটিল হয়ে উঠল তার জীবন?

২০২৫ এর শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন চারিদিক বর্ষবরণের আলোয় ভরে উঠেছে, তখন অনেকেই ফিরে তাকাচ্ছেন গত এক বছরের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির দিকে। কেউ সাফল্যের হিসেব কষছেন, কেউ বা হারানোর বেদনাকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বছরে পা রাখছেন। এই সময় শিল্পী পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভাবনার কথা ভাগ করে নিয়েছেন একেবারে আলাদা ভঙ্গিতে। তাঁর কাছে বছর শেষ মানে শুধুই কী পেলাম আর কী পেলাম না তার তালিকা নয়, বরং এই সময়টা আত্মসমালোচনা আর শেখার উপলক্ষ। সেই ভাবনাগুলোই তিনি তুলে ধরেছেন নিজের অনুভবের ভাষায়।

একটি ভিডিও বার্তায় পৌষালী অকপটে বলেছেন, এই বছর তাঁকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দিয়েছে তা হলো ছেড়ে দেওয়া। যেটা পাওয়া হয়নি, যেটা আশা করেও মেলেনি, যেটা কেউ বলেও করেনি, সেগুলো আঁকড়ে ধরে না থেকে ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি স্বীকার করেছেন, মুখে বলা যতটা সহজ, বাস্তবে সেটা করা ততটাই কঠিন। তবুও নিজের অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধি দিয়ে যদি মনকে একটু হলেও বোঝানো যায়, তাহলে তার ফল হয় অদ্ভুত সুন্দর। এই চেষ্টাটাই তিনি করেছেন গোটা বছর জুড়ে।

নিজেকে আনন্দে রাখাই যে জীবনের আসল লক্ষ্য, সে কথাও বারবার মনে করিয়ে দেন শিল্পী। তবে তিনি শুধু ছেড়ে দেওয়ার কথাই বলেননি। প্রত্যাশাহীন জীবন নিয়েও নিজের মত স্পষ্ট করেছেন পৌষালী। তাঁর মতে, আমরা প্রায়ই বলি কারও কাছে আশা করব না, অথচ সেই কথাটাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়ায়। নিজের কাজের প্রতি দায়িত্ব আর নিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে অযথা প্রত্যাশা রাখা মানেই নিজেকে ভুলের দিকে ঠেলে দেওয়া। এই উপলব্ধিটাও ২০২৫ তাঁকে দিয়েছে।

মায়া প্রসঙ্গে পৌষালীর বক্তব্য আরও গভীর। তিনি বলেন, মায়া সত্যিই বড় জটিল বিষয়। এমনিতেই জীবন নানা জটিলতায় ভরা, তার উপর অপ্রয়োজনীয় মায়া বাড়িয়ে তোলার কোনও মানে নেই। সম্পর্ক, আশা, অনুভূতি সব কিছুর মধ্যেই ভারসাম্য থাকা জরুরি। নইলে সেই মায়াই এক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া মায়া বাড়ানোর পক্ষপাতী নন তিনি, বরং সহজ জীবনযাপনেই বিশ্বাসী।

আরও পড়ুনঃ কারও হঠাৎ মৃ’ত্যু! কেউ লড়ছেন মা’রণ রোগের সঙ্গে! ২০২৫-এ ছেড়ে গেলেন কারা? বছর শেষে ফিরে দেখা!

সবশেষে পৌষালী কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি তাঁর শ্রোতা এবং সমালোচকদেরও। যাঁরা প্রতিনিয়ত তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেন, তাঁদের জন্য ভালো কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে যাঁরা ট্রোল করেন বা বাজে মন্তব্য করেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। কারণ তাঁর মতে, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি সহনশীলতা। এই সহনশীলতাই তাঁকে আরও পরিণত করে, আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়।

Back to top button