বিষ্ণুপুর মেলায় জিৎ-এর অনুষ্ঠান ঘিরে ভয়াবহ কান্ড! মেলা জুড়ে রণক্ষেত্র! চলেছে ভাংচুর! কি অবস্থায় আছেন অভিনেতা?

বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুর মেলায় টলিউড অভিনেতা জিৎ-এর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে সৃষ্টি হল চরম বিশৃঙ্খলা। আনন্দ আর উৎসবের আবহ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল আতঙ্কে। হাজার হাজার দর্শকের ভিড়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে অনুষ্ঠানস্থল কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দর্শকদের একাংশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার আর হুড়োহুড়িতে গোটা এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। বহু মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় এসে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কায় পড়ে যান।
২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতীয় মেলার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিষ্ণুপুর মেলা মূলত রাঢ় বাংলার কুটির শিল্প, সংস্কৃতি ও পর্যটনকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজিত। একদিন আগেও সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও শনিবার রাতের অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ যদুভট্ট মঞ্চে জিৎ ও অন্যান্য শিল্পীদের নাচ গানের অনুষ্ঠান শুরু হতেই বিষ্ণুপুর ছাড়াও বাঁকুড়া জেলার নানা প্রান্ত থেকে দর্শকদের ঢল নামে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকায় পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি এবং ব্যারিকেড ভাঙচুর। মঞ্চের সামনে থাকা কয়েকশো চেয়ার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট বসার জায়গার চেয়ারও রেহাই পায়নি। মেলার আশপাশের একাধিক দোকানে চলে ভাঙচুর ও লুঠপাট। ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার ও ফ্লেক্স।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ধাক্কাধাক্কিতে বেশ কয়েকজন দর্শক আহত হন বলে জানা গিয়েছে। বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও পরে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেই রাতে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়েই আতঙ্কে ছিলেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ বহুদিন পর ফের ছোট পর্দায় দেবশঙ্কর হালদার! জুটিতে সোহিনী সেনগুপ্ত! আসছে নতুন প্রেমের গল্প!
যদিও এত কাণ্ডের মাঝেও উদ্যোক্তাদের দাবি, মূল অনুষ্ঠানে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠান শেষ করে নিরাপদেই মঞ্চ ছাড়েন জিৎ ও অন্যান্য শিল্পীরা। তবে দর্শকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, এত বড় ভিড় সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি কি আদৌ ছিল, আর সংকটের মুহূর্তে পুলিশের ভূমিকা ঠিক কতটা সক্রিয় ছিল।

