বিয়ে মানেই আলাদা সংসার, কিন্তু দূরত্ব নয়, সন্তানদের এই শিক্ষাই দিয়েছিলেন মিঠু চক্রবর্তী, জানালেন বড় ছেলে গৌরব

টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় পরিবার চক্রবর্তীরা। গৌরব চক্রবর্তী ও ঋদ্ধিমা ঘোষকে বহু দর্শকই আদর্শ দম্পতি হিসেবে দেখেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁরা এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের বাবা মা। ছোট্ট ধীরই এখন এই পরিবারের সমস্ত আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। বিয়ের পর থেকেই গৌরব ও ঋদ্ধিমা আলাদা থাকেন, কিন্তু পরিবার থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হননি।

এই আলাদা থাকার সিদ্ধান্তটা আসলে গৌরবদের ছোটবেলার শিক্ষা। মা মিঠু চক্রবর্তী আগেই দুই ছেলে গৌরব ও অর্জুনকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিয়ে করলে আলাদা সংসার গড়তেই হবে। তাঁর মতে এতে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ কখনওই আবেগের দূরত্ব নয়। বরং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সচেতনভাবে বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

গৌরব সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, মা মনে করতেন আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত না হলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তাই আলাদা থাকার সামর্থ হলেই সংসার শুরু করার কথা বলতেন তিনি। গৌরব ও ঋদ্ধিমাও সেই শিক্ষাকেই সম্মান করেছেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই একসঙ্গে সময় কাটান। কখনও তাঁরা বাবা মায়ের বাড়ি যান, আবার কখনও সব্যসাচী ও মিঠু তাঁদের কাছে আসেন।

গৌরবের মতে, আলাদা থেকেও যদি সন্তান গ্র্যান্ড প্যারেন্টদের ভালোবাসা পায়, তাহলে তার মানসিক গড়ে ওঠা অনেক সমৃদ্ধ হয়। ছোট্ট ধীর দাদু ঠাকুরমার সঙ্গে বড় হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষ হিসেবে তাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলবে বলে বিশ্বাস করেন গৌরব ও ঋদ্ধিমা। এই বিষয়টি তাঁদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ পরম-পিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অন্নপ্রাশনে মুখ্যমন্ত্রী, নিষাদ পেল বিশেষ আশীর্বাদ ও উপহার

করোনার সময় ঋদ্ধিমা তাঁর মাকে হারান। সেই শূন্যতা অনেকটাই ভরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা। প্রতি বছর জামাইষষ্ঠীতে নিজে হাতে আয়োজন করেন গৌরবের জন্য। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে সব্যসাচী ও মিঠুর অসুস্থতার সময়েও পুরো পরিবার একসঙ্গে থেকেছে। ক্যানসার ও হৃদরোগের মতো কঠিন লড়াইয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলে, প্রমাণ করেছেন আলাদা থাকা মানেই আলাদা হয়ে যাওয়া নয়।

Back to top button