বাবার জন্মদিনে আবেগে ভিজল ঋতুপর্ণার দুই চোখ! স্মৃতির ভাঁজে আজও বেঁচে আছেন তিনি! বাবাকে কতটা মিস করেন অভিনেত্রী?

বছরখানেক আগেই মাকে হারিয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সেই শূন্যতা আজও প্রতিদিন তাঁকে ছুঁয়ে যায়। তবু অভিনেত্রীর বিশ্বাস, মা কোনও না কোনও ভাবে সব সময় তাঁর পাশেই আছেন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে মায়ের উপস্থিতি অনুভব করেন তিনি। তবে শুধু মায়ের অভাব নয়, বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা আরও বহু বছরের পুরনো। আজ থেকে প্রায় পনেরো বছর আগে বাবার মৃত্যু হয়েছিল ঋতুপর্ণার। সেই ক্ষত আজও পুরোপুরি শুকোয়নি। বাবার স্মৃতি এখনও তাঁর জীবনের গভীরে গাঁথা।

বাবার জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্ট ভাগ করে নিয়েছেন ঋতুপর্ণা। বাবার সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, শুভ জন্মদিন বাবা। পনেরো বছর হয়ে গেল তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেছো। তবুও তোমার স্মৃতি প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে থাকে। মাঝেমাঝে খুব দিশেহারা হয়ে পড়ি, তখন কান্না চলে আসে। তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো। আমরা তোমাকে খুব মিস করি। এই কয়েকটি বাক্যেই যেন বাবার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা আর অভাবের কথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আজ ঋতুপর্ণা যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তার নেপথ্যে বাবার দেখানো পথের অবদান অনস্বীকার্য। যদিও একটা সময় বাবা একেবারেই চাননি মেয়ে অভিনয়ের জগতে আসুক। পরিবারের অন্য সদস্যরা যেখানে সরকারি সংস্থার উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন, সেখানে অভিনয়কে পেশা হিসেবে মেনে নিতে পারেননি তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে তাই শুরুতে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল ঋতুপর্ণাকে। এমনকী কোনও প্রযোজক ফোন করলেও বাবা তা কেটে দিতেন, জানিয়ে দিতেন মেয়ে সিনেমায় কাজ করতে চায় না।

বাবার মৃত্যুর পর মা হয়ে ওঠেন ঋতুপর্ণার সবচেয়ে বড় ভরসা। সুখ দুঃখ সব সময় পাশে থেকেছেন তিনি। জীবনের ওঠানামায় মায়ের হাত শক্ত করে ধরেই এগিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে বাবার অনুপস্থিতি কোনও দিনই পূরণ হয়নি। জীবনের নানা সাফল্যের মুহূর্তে বাবার মুখ মনে পড়ে, ভাবেন আজ তিনি থাকলে কতটা খুশি হতেন। সেই ভাবনাই তাঁকে বারবার আবেগপ্রবণ করে তোলে।

আরও পড়ুনঃ বড়দিনে প্রজাপতি ২, সঙ্গে নতুন চমক! দেবের জন্মদিনেই হবে বিরাট ঘোষণা! কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে অভিনেতার জীবন?

কিছু দিন আগেই আর একটি পোস্টে ঋতুপর্ণা লিখেছিলেন, আশা করি তুমি আর মা এখন একসঙ্গে স্বর্গে ভালো আছো। তোমাদের খুব মিস করছি। তোমাকে আর মাকে ছাড়া আমরা যেন একদম একা। এই কথাগুলিই বলে দেয়, বাবা মা হারানোর পরও তাঁদের স্মৃতিই আজ তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। স্মৃতির মধ্যেই বেঁচে আছেন তাঁরা, আর সেই স্মৃতি নিয়েই এগিয়ে চলেছেন ঋতুপর্ণা।

Back to top button