‘মরে যাওয়ার চেষ্টা করব…’- এক বুক অভিমান! একরাশ য’ন্ত্রণা! অনেক কষ্টে বেঁচে ফিরেও আবার কেন মৃ’ত্যু চান নচিকেতা?

কয়েক দিন আগেই গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। হৃদযন্ত্রে সমস্যা ধরা পড়ার পর তাঁর শরীরে বসানো হয়েছে দু’টি স্টেন্ট। সুস্থ হয়ে ফেরার পথে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে একটি সেলফিও পোস্ট করেছিলেন শিল্পী। অনুরাগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই সোশাল মিডিয়ায় হঠাৎ ভেসে ওঠে মৃত্যুচিন্তা ঘিরে নচিকেতার একটি বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
ভিডিওতে নচিকেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে নতুন নয়। বরং সোশাল মিডিয়ায় বারবার তাঁর মৃত্যু নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোয় গভীর ক্ষোভ জমেছে তাঁর মনে। সেই ক্ষোভ থেকেই ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, আবার কেউ যদি তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করে, তবে তিনি নাকি মরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কথার আড়ালে যে তীব্র যন্ত্রণা আর অভিমান লুকিয়ে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি দর্শকদের।
নিজের জীবনের নানা ভয়ংকর মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেছেন শিল্পী। কখনও বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর চোট পেয়ে কোমায় চলে যাওয়া, কখনও পাতালরেলের টানেলে জলের মধ্যে ডুবে যাওয়ার উপক্রম, আবার ছোটবেলায় ক্ষুদিরামের মতো অভিনয় করতে গিয়ে গলায় ফাঁসের দড়ি পরা। এমনকি নকশাল আন্দোলনের সময়েও মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। এতবার মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ায়, মৃত্যু নিয়ে তাঁর আলাদা কোনও ভয় বা মোহ নেই বলেই দাবি নচিকেতার।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে এমন মন্তব্য কেন। আসলে সোশাল মিডিয়ায় দায়িত্বজ্ঞানহীন গুজব আর ট্রোলিং তাঁকে মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। নিজের আয়ু ফুরোনোর আগেই নাকি তাঁকে বহুবার মেরে ফেলা হয়েছে অনলাইনে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলেন, এবার যেন ট্রোলারদের সম্মান রাখতে গিয়ে সত্যিই কিছু করে বসতে না হয়। কথাগুলো শুনতে রসিকতা মনে হলেও, তার নীচে লুকিয়ে রয়েছে গভীর হতাশা।
আরও পড়ুনঃ ২২ বছরের লিভ ইন থেকে দাম্পত্য! ‘ও আমায় শারীরিক সুখ দিতে পারেনি…’- শর্ত এবং স্বার্থ ছাড়াই অভিনেতা দীপঙ্কর দের পাশে দোলন রায়!
এই ভিডিও পোস্ট করে নচিকেতা যেন আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি আজও আপসহীন এবং স্পষ্টভাষী। গানে যেমন সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, বাস্তব জীবনেও তেমনই প্রতিবাদী তিনি। ট্রোলারদের উদ্দেশে তাঁর এই বার্তা একদিকে তীব্র কটাক্ষ, অন্যদিকে এক মানবিক আর্তি। সব মিলিয়ে নচিকেতা দেখিয়ে দিলেন, বয়স বা অসুস্থতা কোনও কিছুই তাঁর আগুনপাখি সত্তাকে নিভিয়ে দিতে পারেনি।

