‘ছেলে ঢুকিয়ে দেবো বলে…’- একটা মাত্র বিতর্কে ছারখার জীবন! শেষ নিশ্বাস অব্দি বইতে হয়েছে য’ন্ত্রণা! মুখ খুললেন প্রয়াত তাপস পালের স্ত্রী!

প্রয়াত অভিনেতা ও রাজনীতিক তাপস পালের জীবনের একটি বিতর্কিত মন্তব্য আজও তাঁর নামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সময় যতই এগিয়েছে, সেই বক্তব্যের স্মৃতি ততই নতুন করে ফিরে এসেছে সামাজিক মাধ্যমে, রাজনৈতিক আলোচনায় এবং জনমানসে। নাকাশিপাড়ার এক জনসভায় বলা ওই কথাগুলি তাপস পালের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে জানান তাঁর স্ত্রী নন্দিনী পাল।
এক সাক্ষাৎকারে নন্দিনী পাল জানান, ওই মন্তব্যের পর তাপস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিজের বলা কথাকে তিনি কখনওই হালকা ভাবে নেননি। বারবার উপলব্ধি করতেন যে, মারাত্মক ভুল হয়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগত পরিসরে কোনওদিনই আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেননি তাপস। নন্দিনীর কথায়, পরিবার হিসেবেও তাঁরা এই ঘটনায় চরম লজ্জিত ছিলেন এবং এখনও আছেন।
নন্দিনী আরও জানান, ২০১২ সালের একটি দুর্ঘটনায় তাপস পালের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁর সংযম ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব পড়ে। নন্দিনী যদিও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনওভাবেই এই তথ্যকে স্বামীর পক্ষে সাফাই হিসেবে তুলে ধরতে চান না। তবে তাঁর বিশ্বাস, এই শারীরিক সমস্যাও ওই মন্তব্যের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০১৬ সালের জুন মাসে বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাপস পালের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। অগস্ট মাসে তাঁর ম্যাসিভ স্ট্রোক হয়, যা তিনি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। নন্দিনী বলেন, প্রতিদিন স্বামীকে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়তে দেখেছেন তিনি, অথচ কিছুই করার ছিল না তাঁর হাতে।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি তালিকায় বিরাট চমক! এই সপ্তাহের সেরা মেগা কোনটি? এক নজরে দেখে নিন আজকের টিআরপি!
এরপর রোজ ভ্যালি মামলায় গ্রেফতারি, জেল জীবন, অসুস্থতা আর হাসপাতালের বিছানায় দীর্ঘ লড়াই সবকিছুর মধ্যেও তাপস পালের মনে সেই একটাই বোঝা কাজ করত বলে দাবি নন্দিনীর। যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন অপরাধবোধ তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। আজও সেই প্রসঙ্গ উঠলে পরিবারের মাথা নত হয়ে আসে বলে অকপট স্বীকারোক্তি তাঁর।

