অভিনেত্রী বা পরিচালক নয়, এবার নতুন পরিচয় গড়লেন অপর্ণা সেন! ক্যামেরার আড়ালে শুরু করলে নতুন কাজ!

অভিনেত্রী ও পরিচালক হিসেবে অপর্ণা সেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক অনন্য নাম। তাঁর সংবেদনশীল অভিনয়, বাস্তবধর্মী পরিচালনা এবং সাহসী বিষয় নির্বাচন বারবার দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। এমন অসংখ্য ছবি তিনি উপহার দিয়েছেন, যা সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে উঠেছে। তবে এবার তিনি আসছেন সম্পূর্ণ নতুন এক পরিচয়ে। অভিনয় বা পরিচালনা নয়, প্রথমবার একজন ছবি নিবেদকের ভূমিকায় ধরা দিতে চলেছেন অপর্ণা সেন।
অদম্য নামের এই ছবির মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়। সুন্দরবনের পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ২৩ বছরের এক যুবক পলাশকে ঘিরে। পলাশ একজন শিকারি হলেও জীবনের নির্মম বাস্তবতায় সে নিজেই অন্যের শিকারে পরিণত হয়। প্রকৃতির প্রতিকূল পরিবেশ, জীবনযুদ্ধ এবং টিকে থাকার লড়াই মিলিয়ে এই ছবিতে ফুটে উঠবে সুন্দরবনের কঠিন অথচ সত্যিকারের ছবি।
পরিচালক রঞ্জন ঘোষের এই ছবিটি দেখার পর অপর্ণা সেন গভীরভাবে আলোড়িত হন। সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রঞ্জন জানান, ছবি শেষ হওয়ার পর অপর্ণা সেন কিছু সময় নীরব ছিলেন। তাঁর ভাষায়, ছবির প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাননি তিনি। পরে যখন তাঁকে ছবিটি নিবেদন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তিনি বিনা দ্বিধায় সম্মতি জানান।
অদম্য শুধু একটি ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, বরং সমাজের বড় এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। পরিচালক জানান, এই ছবিতে দেখানো হবে কীভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্ষমতাবানদের স্বার্থে ধনীরা আরও ধনী হয় এবং গরিব মানুষ ধীরে ধীরে আরও পিছিয়ে পড়ে। আদিবাসীদের জমি অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুনঃ লন্ডনে স্বপ্নের ঠিকানায় অন্বেষা! কেন নিজের পরিচয়ে আলাদা থাকতে চান স্বস্তিকার মেয়ে? কেনো ব্যবহার করেন না মায়ের পদবী!
সবশেষে পরিচালক বলেন, যখন মানুষের সামনে আর কোনও পথ খোলা থাকে না, তখন তারা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। সেই মানুষদের চরমপন্থী বলা হবে নাকি বিপ্লবী, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। কোন অবস্থায় একজন মানুষ কঠোর পথ বেছে নেয় এবং তার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেই প্রশ্নই তুলে ধরবে অদম্য। অপর্ণা সেনের কণ্ঠে এই গল্প নতুন মাত্রা পাবে বলেই বিশ্বাস দর্শক মহলের।

