জীবিত থাকলে আজ বয়স হতে ৪৪! জীবনকে ফাঁকি দিয়ে পৃথিবী ছেড়েছেন সিদ্ধার্থ শুক্লা! জানেন কোন কোন স্বপ্ন অধরা থেকে গেল অভিনেতার কাছে?

চোখের পলকে কেটে গেল চার বছর। টেলিভিশনের উজ্জ্বল তারকা সিদ্ধার্থ শুক্লাকে হারানোর শোক আজও ভুলতে পারেন না তাঁর অনুরাগীরা। ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। যদি বেঁচে থাকতেন তবে আজ তাঁর বয়স হত চল্লিশ চার। জন্মদিনে তাঁকে মনে করতে গিয়ে ভক্ত আর সহকর্মীরা স্মৃতিচারণায় ভেসে যান। সাজানো জীবন, ফিটনেসের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর পরিশ্রমী মনোভাব তাঁকে আজও অমর করে রেখেছে।
টেলিভিশনের দুনিয়ায় সিদ্ধার্থকে নতুন করে চিনানোর প্রয়োজন নেই। জনপ্রিয় ধারাবাহিক বালিকা বধূ এবং দিল সে দিল তক তাঁকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল। তবে এটাই ছিল না তাঁর সাফল্যের সীমা। তিনি আন্তর্জাতিক প্রকল্পেও কাজ করেছিলেন। বিজনেস ইন কাজাখস্তান নামে একটি সিরিজে অভিনয় করে বিদেশি দর্শকদের মনও জিতেছিলেন। ছোটপর্দা ছাড়িয়ে তাঁর উপস্থিতি পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্বমঞ্চে।
অনেকেই জানেন না যে অভিনয়ের আগে সিদ্ধার্থের পথ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি অন্দরসজ্জা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং পেশাদার অন্দরসজ্জা শিল্পী হিসেবে কাজও করেছিলেন। সৌন্দর্যবোধ আর নান্দনিকতা তাঁকে সবসময় অনুসরণ করেছে। জীবনের প্রথম দিকের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গড়েছিল এক শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী হিসেবে।
সিদ্ধার্থকে আলাদা করে চিনিয়েছিল তাঁর খেলাধুলোর প্রতি গভীর টান। মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স হাইস্কুলে পড়াকালীন তিনি টেনিসে স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি ইতালির জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব এসি মিলানের বিরুদ্ধে ম্যাচও খেলেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল বহু গুণ।
আরও পড়ুনঃ কোয়েল মল্লিকের রঙিন জীবনে লুকোনো ছিল বি’ষাক্ত কাঁটা! অভিনেতার মেয়ে হয়েও করতে হয়েছে লড়াই! কোন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন কোয়েল মল্লিক?
মডেলিং জগতে পদার্পণ ছিল তাঁর জীবনের আরেকটি বড় মোড়। ২০০৫ সালে তিনি তুরস্কে অনুষ্ঠিত মডেলিং প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বিজয়ী হন। এরপর ইলা অরুণের একটি গানের ভিডিওতে তাঁর প্রথম অভিনয় জনসমক্ষে আসে। সুদর্শন চেহারা আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জোরে তিনি দ্রুতই নিজের জায়গা করে নেন। বিগ বস তেরো এবং খত্রোঁ কে খিলাড়ির মতো রিয়েলিটি শোতে জয়লাভ করে তিনি দর্শকদের কাছে আরও আপন হয়ে ওঠেন। তাঁর অকালে চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারেন না কেউ। তাঁর স্মৃতি তাই আরও আলো ছড়িয়ে যায় সময়ের সঙ্গে।

