‘এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি, ভয়েতে…’- স্বরলিপির মনে অনিশ্চয়তার ছায়া! হঠাৎ কি ঘটেছে অভিনেত্রীর সঙ্গে?

দিন কয়েক আগেই গোয়ার সমুদ্রসৈকতে বসে গরুর মাংস খাওয়ার একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী স্বরলিপি। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ একটি পোস্টই মুহূর্তের মধ্যে হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ছবিটি প্রকাশ হওয়া মাত্রই নেটিজেনদের একাংশ নেমে আসে তীব্র সমালোচনায়। পোশাক থেকে খাবার সবকিছুতেই শুরু হয় মন্তব্যের বন্যা। বহু বছর পর্দা থেকে দূরে থাকা স্বরলিপি বর্তমানে নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এই অপ্রত্যাশিত কটাক্ষ তাকে স্পষ্টতই বিচলিত করেছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি জানান যে খুব খারাপ সময়ের গন্ধ তিনি অনুভব করছেন। কী এমন ঘটল, কেন এই আশঙ্কা তার মনে জন্ম নিল সেই প্রশ্নের উত্তর মেলে মন্তব্য বিভাগে চোখ রাখলেই। কেউ লিখেছেন তিনি নাকি হিন্দু হয়েও এমন খাবার খাচ্ছেন। কেউ আবার দাবি করেছেন এমন কাজ করাতেই তার জীবনে খারাপ ঘটনা ঘটছে। সমালোচনার তীব্রতা দেখে বিস্মিত হয়েছেন স্বরলিপি নিজেও, কারণ এত দিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি কখনও হননি।
এখানেই শেষ নয়। স্বরলিপি জানালেন যে এই ধরনের আক্রমণ শুধুমাত্র ওই ছবিতেই সীমাবদ্ধ নেই। তার পডকাস্টের কমেন্ট বক্সে ঢুকে অনেকেই একই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন যে এই প্রবণতা অত্যন্ত অদ্ভুত এবং অস্বস্তিকর। তার পরিচিত এমন বহু মুসলিম আছেন যারা গরুর মাংস খান না আবার তার পারিবারিক চিকিৎসক থেকে শুরু করে গৃহ সহায়ক পর্যন্ত এমন অনেকেই আছেন যারা এই খাবারটি এড়িয়ে চলেন। ফলে ধর্মকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য আসা তাকে আরও বেশি হতবাক করছে।
এই বিতর্কের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মনে করছেন স্বরলিপি। তিনি জানান যে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের পদবি ব্যবহার করেন না যাতে জাত বা ধর্ম নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি বা বিতর্ক না হয়। সেক্ষেত্রে এ ধরনের মন্তব্যের উদ্দেশ্য তার কাছে স্পষ্টই হয়ে উঠছে। তাকে ঘিরে চলা কটাক্ষের ঢেউ যে নিছক ব্যক্তিগত নয় বরং অন্য কোনও উদ্দেশ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে সে বিষয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথম স্থান দখল করলো পরশুরাম! পেছনেই রয়েছে প্রফেসর বিদ্যা! জলসার চাপে কি হাল হলো পরিণীতার? দেখে নিন আজকের টিআরপি তালিকা!
সবশেষে স্বরলিপির বিস্ময় যে গরুর মাংস খাওয়ার মতো একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কেউ তার খারাপ চাওয়া বা আরও খারাপ সময় আসুক এমন মন্তব্য করতে পারে। মানুষের এই মনোভাব তাকে ব্যথিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অদ্ভুত এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিজ্ঞতা তার এই প্রথম। তাই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতেই তিনি জানান যে এরকম অদ্ভুত ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি এবং ঠিক কী কারণে মানুষ এতটা বিদ্বেষ দেখাচ্ছেন তা তিনি আজও বুঝে উঠতে পারছেন না।

