“আমার কাছে যদি প্রস্তাব আসে তাহলে আমি…”- সত্যিই কি এবার রাজনীতির মঞ্চে পা রাখছেন সোহিনী? কি বললেন অভিনেত্রী?

অভয়া ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন সোহিনী সরকার। তাঁর খোলা মুখ আর স্পষ্ট অবস্থান দেখে তখনই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল ভবিষ্যতে কি তবে রাজনীতির মঞ্চেই দেখা মিলবে অভিনেত্রীর। কারণ বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের দুনিয়ায় বহু তারকাকেই এর আগে আন্দোলন বা সামাজিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখার পর রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে দেখা গেছে। তাই সোহিনীকে নিয়েও ধারণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিকই ছিল।
কিন্তু সেই ঘটনার পর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হননি তিনি। সম্প্রতি রঘু ডাকাত ছবির প্রচারে তৃণমূলের এক নেতার সঙ্গে তাঁর নাচের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন সোহিনীকে কেন্দ্র করে। তবে অভিনেত্রী একদমই বিরক্ত হননি। বরং তিনি জানিয়েছেন সবাইই নিজের নিজের লড়াই নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তাই কুণাল ঘোষ কিংবা তিনি নিজে দুজনের লড়াইয়ের ধরন আলাদা হলেও তাতে রাগ করার মতো কিছু নেই।
দা ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে আছে কি না, তখন কোনও দ্বিধা ছাড়াই উত্তর দেন তিনি কোনওভাবেই কোনও রাজনৈতিক দলের অংশ হতে চান না। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি বা সিপিএম যে দলেরই হোক না কেন তিনি যোগ দেবেন না। তাঁর কথায় তিনি যদি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে যান তাহলে নিজের মতামত আর স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবেন না। তখন তাঁর আর কিছু বলার থাকবে না এবং চুপচাপ হয়ে যেতে হবে।
শিল্পী সমাজের ক্ষেত্রে আগের ছবিটা এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। কয়েক বছর আগেও অভিনেতা অভিনেত্রীরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। কিন্তু এখন ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা দেব থেকে মিঠুন চক্রবর্তী অনেক তারকাকেই রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়। এই অবস্থাতেই সোহিনীর সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী।
আরও পড়ুনঃ শেষ ছবির শুটিংয়ে বলা কথাই ফলে গেল ধর্মেন্দ্রর জীবনে? কি বলেছিলেন অভিনেতা? আবেগে ভাসল নেটপাড়া!
সোহিনী যেমন পরিষ্কারভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে আসা নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন তেমনই কিছুদিন আগে পায়েল দে একই মতামত জানান। তাঁর মতে রাজনীতি করতে গেলে আগে যথেষ্ট পড়াশোনা এবং বোঝাপড়া প্রয়োজন। অনেকেই প্রস্তুতি ছাড়াই রাজনীতিতে এসে পড়েন যা ঠিক নয়। রাজনীতি একটি দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব নিতে হলে বিষয়টি সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। দুজন অভিনেত্রীই তাই নিজেদের মত স্বাধীনভাবে রাখতে চান এবং আপাতত রাজনীতি থেকে দূরেই থাকতে চান।

