কেন ভেঙেছিল সন্ধ্যা রায় ও তরুণ মজুমদারের সংসার? সামনে এলো আসল কারণ!

বাংলা ছবির প্রেমীরা আজও স্নেহভরে মনে করেন তরুণ মজুমদার ও সন্ধ্যা রায়কে। পর্দার সামনে–পেছনে দুজনের রসায়ন সবসময়ই ছিল নজরকাড়া। পলাতক, কুহেলি, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, দাদার কীর্তি, ভালোবাসা ভালোবাসা—এই সব ছবির সাফল্য যেমন তাঁদের নামকে স্থায়ী জায়গা দিয়েছিল দর্শকের মনে, তেমনই বাস্তবেও তাঁরা একে অপরের প্রেমে আবদ্ধ হন শুটিংয়ের ফাঁকে। সে সময় তাঁদের বিয়ের আয়োজন ছিল রাজকীয়। টলিউডের প্রায় সবাই হাজির ছিলেন সেই আনন্দের মুহূর্তে।

এই সম্পর্কের পেছনে একটি মিষ্টি গল্পও রয়েছে। বাংলা ছবির খ্যাতনামা পিআর বাগীশ্বর ঝা তরুণ মজুমদারকে স্নেহ করতেন নিজের ছেলের মতো। তাঁরই হাত ধরেই তরুণ ও সন্ধ্যার প্রেমের সূত্রপাত হয় এবং শেষমেশ বিয়ের আসর রাঙিয়ে ওঠে। সেই যুগে পরিচালকের সঙ্গে নায়িকার প্রেম থেকে বিয়েতে পৌঁছোনো ছিল খুবই বিরল ঘটনা। সেই তুলনায় এ যুগল ছিলেন অনেকের কাছে আদর্শ সম্পর্কের প্রতীক।

কিন্তু সময়ের স্রোতে এত ভালবাসার পরও বদলে গেল সমীকরণ। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর হঠাৎই সন্ধ্যা রায় বেরিয়ে আসেন তরুণ মজুমদারের সংসার থেকে। ঠিক কেন এই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে শিল্পী মহলে নানা কথাকাটাকাটি, চাপা গুঞ্জন, নানা ব্যাখ্যা ঘুরে বেড়াতো সেই সময়। অনেকে দাবি করতেন তাঁরা নীরবে বিচ্ছেদ করেছেন। কেউ কেউ বলতেন, বিবাহ না ভেঙেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

রটে ছিল, তরুণ মজুমদারের কাজের প্রতি অনুরাগই নাকি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের সম্পর্কে। পরিচালনার কাজে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন তিনি যে সংসার ও সম্পর্কের দিকে মন দেওয়ার সময় নাকি পেতেন না। আবার অনেকেই বলতেন, বিয়ের কয়েক বছর পরই সন্ধ্যার প্রতি তরুণের আগ্রহ বদলে গিয়েছিল। এই সমস্ত কারণেই নাকি একদিন মন শক্ত করে ঘর ছাড়েন সন্ধ্যা।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার কেউ বন্ধু ছিল না, ওরা সবাই আমার সাথে…’- স্কুলজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেতা সায়ক!

গুঞ্জন যা–ই হোক, এ নিয়ে দুজনেরই নীরবতা ছিল লক্ষণীয়। সন্ধ্যা রায় কখনও দাম্পত্যের ব্যক্তিগত অধ্যায় সামনে আনতে চাননি, আর তরুণ মজুমদারও একইভাবে নীরব থেকেছেন। ফলে গসিপ ম্যাগাজিনে নানা কাহিনি উড়ে বেড়ালেও, সত্যিটা রয়ে গেল পর্দার আড়ালে। আজও তাই এই বিচ্ছেদের মূল কারণটি থেকে গেছে এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে।

Back to top button