অপর্ণা সেনের মেয়ে হিসেবে নয়, নিজের যোগ্যতায় উজ্জ্বল কঙ্কনা সেনশর্মা! জন্মদিনে সুমন-পরমব্রতের উষ্ণ অভিনন্দন!

অভিনেত্রী ও পরিচালক— কঙ্কনা সেনশর্মাকে দুই সত্তাতেই দর্শক দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসে। কিন্তু ‘অপর্ণা সেনের মেয়ে’ এই পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিটা কেমন? জন্মদিনের আগের দিন সেই প্রশ্নই করা হয়েছিল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পরিচালক সুমনকে, যারা কঙ্কনার সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এল এক মেধাবী, সংযত ও সৎ শিল্পীর পরিচয়।
সুমন ও পরমব্রত দু’জনেরই আক্ষেপ— কঙ্কনার পরিচালকের পরিচয় দর্শক যতটা দেখেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি দেখার দাবি রাখে। পরমব্রত মজা করেই বলেন, কঙ্কনা তখনই পরিচালনায় হাত দেন, যখন তাঁর হাতে অন্য কাজ কম থাকে। সুমনের মতে, তাঁর সিনেমাগুলোতে কঙ্কনার সততা ও গভীরতা লুকোতেই চায় না। ‘এ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ’ বা ‘লাস্ট স্টোরিজ ২’— প্রতিটি কাজে তিনি নিজের স্বতন্ত্র স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
অনেকেই ভাবেন, অপর্ণা সেনের মেয়ে হওয়ায় কঙ্কনা নাকি সহজেই সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু যারা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের দাবি সম্পূর্ণ উল্টো। সুমনের কথায়, দিল্লিতে বড় হওয়া কঙ্কনা কখনোই পারিবারিক পরিচয়কে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং বলিউডে তাঁকে বাড়তি যতটুকু দিয়েছে, তা হলো সম্মান, সুবিধা নয়। পরমব্রতও সাফ বলেন, রণবীর কাপুরের পাশে ‘ওয়েক আপ সিড’-এ বা নাসিরুদ্দিন শাহ-জয়া বচ্চনের মতো বর্ষীয়ান অভিনেতাদের সঙ্গে ‘সানগ্লাস’-এ অভিনয় করা— সবটাই কঙ্কনার ব্যক্তিগত যোগ্যতার ফল।
অভিনয়ে দক্ষতা ছাড়াও কঙ্কনার ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশংসায় ভাসেন দুই সহ-শিল্পী। তাঁরা বলছেন, কঙ্কনা অত্যন্ত ছিমছাম, সংযমী এবং আত্মনিয়ন্ত্রিত। নিজের কাজে মনোযোগী এই অভিনেত্রী ব্যক্তিগত বিষয়ে কারও নাক গলানো পছন্দ করেন না। ভালো বই পড়লে সহকর্মীদেরও পড়তে বলেন, আবার সুস্বাদু খাবারের প্রতিও তাঁর আলাদা ভালোবাসা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দুই পক্ষের সন্তানদের হাত খালি! পঞ্জাবের ৫ কোটি টাকার জমি কাকে দিয়ে গেলেন ধর্মেন্দ্র?
সংসার, সম্পর্ক বা মাতৃত্ব— এসব পরিচয়ের বাইরে সবচেয়ে উজ্জ্বল কঙ্কনার বাস্তব, কেজো এবং নির্মোহ শিল্পীসত্তা। পরিচিতি যত বড়ই হোক, নিজের হাতে নিজের জায়গা তৈরি করাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি— সুমন ও পরমব্রত দু’জনেরই মত এক।

