“একটু একটু করে টাকা জমিয়ে ২ ভাই মায়ের জন্য কেক কিনতাম…আমার জন্য নিজের শেষ সম্বলটাও মা বিক্রি করে দিয়েছিল”- পিতৃহীন সায়ককে বুকে করে আগলে রেখেছিলেন মা! সেই মাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ অভিনেতা!

বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত মুখ সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) আবার খবরের শিরোনামে। অভিনয়ে নিয়মিত থাকা এই শিল্পী এখন একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করছেন, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দারুণ জনপ্রিয়। পর্দার সামনে যে সহজ-সরল, পরিশ্রমী মানুষকে দর্শক দেখে থাকেন, বাস্তবেও তিনি ঠিক ততটাই নিবেদিত। বিশেষ করে তাঁর পরিবারের প্রতি। আর সেই হৃদয়ের গভীরের গল্পটাই উঠে এল তাঁর সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্টে।
সায়ক নিজের জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা খুলে বলেছেন অত্যন্ত আবেগঘন ভঙ্গিতে। একসময় অর্থকষ্টে বড় হওয়া দুই ভাই মিলে সামান্য কিছু টাকা জমানোর পর মায়ের জন্য কেক কিনে আনতেন, সে স্মৃতি তিনি তুলে ধরেছেন নিজের ভাষায়: “একটু একটু করে টাকা জমিয়ে তখন ২ ভাই মায়ের জন্য কেক কিনতাম…” সোনারপুরের শাড়ির দোকানগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে মা’র জন্য শাড়ি কেনার অধরা স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই ছোটবেলার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে, কারণ আজ তিনি নিজেই শাড়ির দোকানের বিজ্ঞাপনের মুখ।
অভিনেতার পোস্টের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া অংশ মায়ের সংগ্রামের গল্প। একসময় সংসারের চাপ সামলাতে মা বিক্রি করে দিয়েছিলেন নিজের সোনা, রুপো, এমনকি যত্নে রাখা শেষ গয়নাটাও। সায়ক লিখেছেন, “গয়নার দোকান? ওখেনে আমরা যেতাম শুধু বিক্রি করতে…মায়ের গায়ের শেষ গয়না রুপোর প্রবাল এর আংটি, সেটাও মা বিক্রি করে দিয়েছিলো।” সেই হারানো সবটুকু আজ তিনি ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, “এটা অহংকার নয়, এটা আমার গর্ব।”
নিজের সাফল্যকে কখনই ব্যক্তিগত জয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না অভিনেতা। তাঁর বিশ্বাস, কারও প্রতি হিংসা ছাড়াই, সৎ পথে কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন সবারই সময় ফিরবেই, এমন ইতিবাচক বার্তাও তিনি দিয়েছেন নিজের পোস্টে। তাই জীবনের প্রতিটি সাফল্য তিনি ভাগ করে নিতে চান পরিবার, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, সবার সঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে শান্তি ফেরাল নতুন অপর্ণা! ‘জীবন থেকে সেই মানুষগুলোকে মুছে ফেলি…’- সমাজ মাধ্যমকে জিতু কমলের নতুন বার্তা!
এবার সামনে আসছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনগুলোর একটি। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তাঁর মায়ের জন্মদিন। সেই দিনটি শুধু নিজের মাকে নয়, অনেক সেইসব মায়েদের সঙ্গেও কাটাতে চান যাঁদের সন্তানেরা আজ আর পাশে নেই। সায়কের কথায়, “মায়ের হারানো গয়না থেকে শাড়ি বাড়ি সব একটু একটু করে ফিরিয়ে দিয়েছি, এবার ভাবছি মায়ের জন্মদিনটা বাকি অনেক মায়ের সাথে কাটাবো।” আর এই কারণেই তাঁর পোস্টটি শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়—বরং শিল্পীর হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসা মানবিকতার এক নিখুঁত উদাহরণ।

