ভুল পথে গাড়ি চালানোয় প্রতিবাদ! সেখান থেকেই বচসা! অভিনেত্রীর গায়ে হাত! ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে আইনের দ্বারস্থ সুদীপা চট্টোপাধ্যায়!

কলকাতার রাস্তায় ছেলেকে নিয়ে চলতে চলতে চরম আতঙ্কের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। অ্যাপ-ক্যাবে দাদার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সামান্য একটি ‘স্টপেজ’ যোগ করা নিয়েই চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নেয়। সুদীপার অভিযোগ, হিন্দিভাষী ওই চালক প্রথমে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে শুরু করেন এবং পরেই নির্ধারিত রুট ছেড়ে গাড়ি ঘুরিয়ে এক অজানা পথে নিয়ে যেতে থাকেন। এতে তিনি এবং তাঁর ছোট ছেলে আতঙ্কে কাঁপতে থাকেন।
ঘটনার ধাক্কা সামলে আজকাল ডট ইন-কে সুদীপা জানান, তিনি ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানাতে প্রস্তুত। অসুস্থতার কারণে আজ যেতে না পারলেও আগামীকালই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন। অভিনেত্রীর কথায়, ওই ঘটনার পর তাঁর রক্তচাপ বেড়ে যায়, মাথা ঘোরায়, ফলে তাঁকে সারাদিন বিশ্রামে থাকতে হয়েছে। তবুও তিনি নিশ্চিত, এই ধরনের অসুরক্ষিত অভিজ্ঞতা নিয়ে চুপ করে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
এই ঘটনার সবচেয়ে গভীর প্রভাব পড়েছে তাঁর ছেলে আদিদেবের উপর। তবে সুদীপা জানালেন, ভয়কে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সেটাই তিনি ছেলেকে শেখাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করাই একমাত্র পথ, ভয় পেলে চলবে না। তাই ঘটনা যতই ভয়ঙ্কর হোক, তিনি প্রতিদিনের মতোই ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়েছেন, যেন শিশুটির মনে আতঙ্ক জায়গা না করে নেয়।
তবে সমস্যার এখানেই শেষ নয়। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনতেই অনেকেই উলটে প্রশ্ন তুলেছেন সুদীপার আচরণ নিয়ে। কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, কেন তিনি চালকের গায়ে হাত তুলেছিলেন। জবাবে সুদীপা সরাসরি বলেন, যখন একজন মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি অন্য পথে নিয়ে যায়, প্যানিক বাটন কাজ করে না, আর আপনার অনুরোধ সে অগ্রাহ্য করে—তখন আত্মরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই তিনি করেছেন।
আরও পড়ুনঃ মুখে লেগে একগাল হাসি! দেখতে দেখতে ছ’মাস! কার মতন দেখতে হলো পরম-পিয়ার খুদে নিষাদ?
সুদীপা আরও ক্ষুব্ধ হন ভাষা-সংক্রান্ত আচরণে। তাঁর অভিযোগ, তিনি বারবার বাংলায় কথা বললেও চালক ইচ্ছে করে তাঁকে হিন্দিতে কথা বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, অন্য রাজ্যের মানুষের প্রতি তাঁর কোনও বিদ্বেষ নেই, কিন্তু বাংলায় কাজ করতে এলে ন্যূনতম বাংলা জানা উচিত। তিনি বললেন, অন্য রাজ্যে কেউ স্থানীয় ভাষা না জেনে কাজ শুরু করলে তা মেনে নেওয়া হয় না, কিন্তু বাঙালিরা অতিরিক্ত সহনশীল হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বেড়ে চলেছে।

