চলছে ধর্মেন্দ্রের রেখে যাওয়া স্মৃতির বাটোয়ারা! দ্বিতীয় স্ত্রী হেমার ছোট মেয়ে চায় বাবার ‘ফিয়াট’ গাড়ি! অভিনেতার সম্পত্তি থেকে কি সম্পূর্ণ বঞ্চিত তাঁর প্রথম স্ত্রী?

বলিউড কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র তাঁর ৯০ বছরের জন্মদিনের আগেই চিরবিদায় নিয়েছেন। শেষ মুহূর্ত কাটিয়েছেন মুম্বইয়ের সেই পৈত্রিক বাড়িতেই, যেখানে কখনও প্রবেশের অনুমতি পাননি হেমা মালিনী বা তাঁদের দুই মেয়ে এষা ও অহনা দেওল। বহুদিন ধরেই প্রচলিত, এই বাড়িটি বরাবরই প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু এই সব দূরত্বের আড়ালেও বাবার প্রতি ভালোবাসা কমেনি অহনার। তিনি বহু আগেই জানিয়েছিলেন, বাবার সম্পত্তি তাঁর প্রয়োজন নেই; বরং বাবার সাথে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ স্মৃতি তিনি আগলে রাখতে চান।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অহনা জানিয়েছিলেন, বাবা ধর্মেন্দ্রের প্রথম কেনা ফিয়াট গাড়িটি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে চাইবেন। তাঁর কথায়, এই গাড়িটি শুধুই পুরোনো এক ভিন্টেজ কার নয়, বরং তা তাঁর বাবার স্মৃতির ভাণ্ডার। ছোটবেলা থেকে বারবার এই গাড়ির গল্প শুনে বড় হয়েছেন অহনা। গাড়িটির প্রতি তাঁর এই আবেগের কারণও বিশেষভাবে অনুভূত হয় তাঁর বক্তব্যে—এই গাড়ির প্রতিটি দাগ, প্রতিটি গন্ধ যেন তাঁর বাবার উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়।
বাবার সঙ্গে কাটানো শৈশবের একটি স্মৃতি তিনি সাক্ষাৎকারে ভাগ করেছিলেন। অহনার বয়স তখন মাত্র ছয়, বাবা যাচ্ছিলেন লোনাভলার ফার্মহাউসে। রওনা হওয়ার আগে তাঁকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন বাড়ির সামনে। সেদিন অহনা বায়না ধরার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ছোট ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া হয় এবং বাবা তাঁকে কোলে বসিয়ে গাড়িতে তুলে নেন। সেই পথচলা, সেই কাছের মুহূর্ত—আজও তাঁর হৃদয়ে সবচেয়ে আদরের জায়গা দখল করে আছে।
অহনা আরও বলেছিলেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মাকে সিনেমায় অন্যের সাথে রোমান্স করতে তিনি মোটেও সহ্য করতে পারতেন না। রেগে যেতেন, বিভ্রান্ত হতেন। হেমা মালিনী তাঁকে বোঝাতেন অভিনয় আর বাস্তব জীবনের পার্থক্য। কিন্তু শিশুমনে সেই ব্যাখ্যা মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। ধীরে ধীরে বড় হয়ে তবেই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁদের পেশার এটাই স্বাভাবিক অংশ।
আরও পড়ুনঃ ধর্মেন্দ্রর মৃ’ত্যুর পর প্রথমবার মুখ খুললেন হেমা মালিনী! স্বামীকে স্মরণ করে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী! কি ছিল অভিনেতার শেষ ইচ্ছে?
ধর্মেন্দ্রের জীবন সবসময়ই ছিল রঙিন, কখনও বিতর্কিত। ১৯ বছর বয়সে প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে বিয়ে এবং চার সন্তানের জন্ম, তারপর হেমা মালিনির প্রেমে পড়া ও দ্বিতীয় বিয়ে—সবটাই বলিউড ইতিহাসের অংশ। হেমার সঙ্গে বিয়ের পরও প্রথম স্ত্রীকে কখনো ডিভোর্স দেননি তিনি। নানা বাধা এড়িয়ে ১৯৮০ সালে হয় তাঁদের বিয়ে, যদিও বহু বিষয়ই প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি কেউই। আলাদা বাড়িতে থেকেও হেমা–ধর্মেন্দ্র সম্পর্ক ছিল অনবদ্য। আর তাঁদের দুই মেয়ে, বিশেষ করে অহনা, বাবার প্রতি সেই ভালোবাসাই আজও হৃদয়ে বহন করে চলেছেন।

