‘বাঙালির মনে ‘বাবাইদা’ হয়ে আমিই থাকব, রাজের ওই…’- রাজের হিন্দি ‘পরিণীতা’ নিয়ে বিস্ফোরক ঋত্বিক চক্রবর্তী!

রাজ চক্রবর্তীর প্রথম হিন্দি সিরিজ জিদ্দি ইশ্ক মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে পুরোনো বাংলা হিট ছবি পরিণীতা। ছ’বছর আগে মুক্তি পাওয়া সেই ছবিকেই নতুন আঙ্গিকে হিন্দি ওয়েব সিরিজ হিসেবে সাজিয়েছেন রাজ। পরিচালক আগেই জানিয়েছিলেন, ছবির শেষ যেখানে, সিরিজের শুরু সেখান থেকে। গল্পে রয়েছে নতুন মাত্রা, বেশি অ্যাকশন এবং আরও গভীর আবেগ। তবে মিলের জায়গা খুবই কম, কারণ রাজ ইচ্ছে করেই সব বদলে দিয়েছেন। নায়ক-নায়িকাও সম্পূর্ণ নতুন মুখ—ঋত্বিক এবং শুভশ্রী’র জায়গায় এসেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও অদিতি পোহানকর।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নায়কের চরিত্র বদল। ছবিতে ‘বাবাইদা’র প্রেমে মাতাল হয়েছিল বাংলা দর্শক, আর সিরিজে সেই চরিত্র হয়ে গেল ‘শেখরদা’। এই পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋত্বিক জানালেন যে তিনি ট্রেলার দেখেছেন, তবে সিরিজ এখনও দেখেননি। তাঁর কথায় বাংলা ও হিন্দি ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরণ আলাদা এবং রাজ সেই নিয়ম মেনেই এগিয়েছেন। পরমব্রতকে নিজের পুরোনো চরিত্রে দেখে কেমন লাগল? অভিনেতার সহজ স্বীকারোক্তি— তুলনার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ পরমব্রত অভিনয় করছেন ‘বাবাইদা’ নয়, ‘শেখরদা’কে।

এরপরই আসে সবচেয়ে আবেগঘন মন্তব্য। ঋত্বিক জানান, আজও পরিণীতার দৃশ্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে রিল তৈরি হয় এবং তাঁকে ট্যাগ করা হয়। তাঁর বিশ্বাস, বাঙালির মন থেকে ‘বাবাইদা’কে সরানো সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন সেই চরিত্রে তিনি এমন ছাপ রেখে যেতে পেরেছেন যা সময়ের সঙ্গে মুছে যাবে না। পরিণীতা তাঁরা সবাই মিলে খুব ভালোবেসে তৈরি করেছিলেন, তাই দর্শকের ভালোবাসা আজও এতটাই গভীর।

একসময় শোনা গিয়েছিল সুজয় ঘোষের মেয়ে অন্নপূর্ণা ঘোষের ছবি কিং-এ অভিনয় করতে পারেন ঋত্বিক। যদিও পরে বদলে যায় অনেক পরিকল্পনা। অনেকের মতে, রাজের এই হিন্দি সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পেলে বলিউডে তাঁর পথ খুলে যেত। তবে ঋত্বিক নিজের মতো করে যুক্তি দিলেন— তিনি বলিউডে কাজ করতে চান ঠিকই, কারণ সেখানে পারিশ্রমিক বেশি এবং খ্যাতিও জাতীয় স্তরের। কিন্তু জোর করে সুযোগ পাওয়া তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তিনি বিশ্বাস করেন সময় হলে সব ঠিক পথেই এগোবে।

আরও পড়ুনঃ দিতিপ্রিয়ার জায়গায় সৃজা দত্ত? চিরদিনই তুমি যে আমার-এর নতুন অপর্ণা? ধোঁয়াশা কাটাতে কি বললেন অভিনেত্রী সৃজা?

শেষে অভিনেতা হাসিমুখেই স্বীকার করেছেন একটি ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা। তাঁর হিন্দি উচ্চারণ বাংলার অনেক অভিনেতার মতো সাবলীল নয়। তাই আরও অনুশীলন প্রয়োজন। তবে দর্শকের কাছে তিনি যে চিরদিনের ‘বাবাইদা’, সেটা বলতে তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া স্পষ্ট।

Back to top button