‘আপনাদের জন্যই জোকার সাজি…’- অকারণে জিতুকে কোণঠাসা! জিতুর পাশে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ অভ্রজিত!

‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিককে ঘিরে নেটমাধ্যমে নজিরবিহীন বিতর্ক চলছে। একদিকে অসুস্থ শরীর নিয়েও শুটিং-ফ্লোরে ফিরে গিয়েছেন জিতু কামাল, অন্যদিকে শোনা যাচ্ছিল—দিতিপ্রিয়া রায় নাকি তার সঙ্গে অভিনয় করতে অনিচ্ছুক। দিতিপ্রিয়া প্রথমে সহ-অভিনেতার আরোগ্য কামনা করলেও নাম না করার কারণে অনেকেই তাকে দোষারোপ করেন। এরপর যখন ছড়িয়ে পড়ে যে অভিনেত্রী জিতুর সঙ্গে কাজ করতে রাজি নন, তখন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে—দিতিপ্রিয়ার বদলে অন্য নায়িকাকে আনতে হবে।
ঠিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই নীরবতা ভেঙে আবেগঘন একটি পোস্ট শেয়ার করলেন ধারাবাহিকের অভিনেতা অভ্রজিত চক্রবর্তী। জিতুর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ফিরে গেলেন ২০১১ সালে মায়ের মৃত্যুশয্যার মুহূর্তে। লেখেন, সেদিন আমরি হাসপাতালে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দেবী দা। আশীর্বাদ করে বলেছিলেন—অভিজিৎ বড় হিরো হবে, তার অভিনয় একদিন সবাই দেখবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবি মুক্তি পায়নি, আর দেবীদাও চলেই যান। মাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেও নতুন করে লড়াই শুরু করেছিলেন অভিনেতা।
অভ্রজিত জানান—এই পেশায় অনেক কঠিন সময় আসে, কিন্তু দর্শকের জন্যই শিল্পীরা পারফর্ম করে চলেন। অন্য পেশায় চাইলেই মানুষ লুকিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু অভিনেতাদের সবসময়ই ‘জোকার সাজতে’ হয়, কারণ দর্শকের বিনোদন যেন ব্যাহত না হয়। ব্যক্তিগত শোক, অসুস্থতা, বিপর্যয়—সব পেরিয়ে তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়।
এই অবস্থায় জিতুকে উদ্দেশ্য করেই অভিজিতের আবেদন—ভুল বোঝাবুঝি থেকে যেন কেউ সিদ্ধান্ত না নেন। তিনি লেখেন, “আমি না হয় রিচ পাওয়ার জন্য কিছু করি, কিন্তু যাঁরা করে না তাঁদের পাশে দাঁড়ান। আপনারা আমাদের নিজের মানুষ। দয়া করে নৌকাটাকে ডুবতে দেবেন না।”
আরও পড়ুনঃ বাবার মুখোশ খুলে দিলো লাবু! সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছে ফুলকি-অরণ্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
শেষে অভিনেতা দু’জনের একটি বন্ধুত্বের ছবি শেয়ার করে জানান, তাদের সম্পর্ক শুধু ক্যামেরার সামনে নয়, বাস্তবেও সমান মজবুত। দর্শকের প্রতি তার অনুরোধ—বাকিটা সময়কে দিতে হবে, সত্যি নিজেই প্রকাশ পাবে।

