‘একসময় জিতুর কোলে করে ঘুরেছি…’- ঝামেলার মাঝেই তুলে আনলেন পুরনো স্মৃতি? হঠাৎ কেন স্মৃতি হাতরে আবেগে ভাসলেন দিতিপ্রিয়া?

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ এখন যেন পুরোপুরি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। একের পর এক অভিযোগ–বিপর্যয়ে সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে যেখানে কাজ করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিতিপ্রিয়ার অভিযোগ—সহ-অভিনেতা জিতু কমলের উপস্থিতিই নাকি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছে, তাই তিনি সেটে ‘নো-টাচ’ নীতি মেনে চলছেন। এমনকী শোনা যাচ্ছে, টিমের কিছু সদস্য চাইছেন জিতুই নাকি ধারাবাহিক ছেড়ে দিন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যতটা জটিল, ততটাই উত্তপ্ত। এসবের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য সামনে নিয়ে এসেছিলেন জিতু।

কিন্তু গল্পের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্য রকম। সিরিয়াল শুরু হওয়ার প্রথম দিকে দিতিপ্রিয়া নিজেই এক পুরনো স্মৃতি শেয়ার করেছিলেন—যা আজকের পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান। তিনি বলেছিলেন, ছোটবেলায় একবার জিতুর কোলে চড়েই নাকি ঘুরেছেন! তখন তাঁদের বাড়ির কাছেই থাকতেন অভিনেতা। বয়সের ফারাক ১৫ বছর হলেও, এই অসম বয়সের প্রেমই ছিল গল্পের প্রধান আকর্ষণ। আর্য ও অপর্ণার রসায়নই দর্শককে ধারাবাহিকের দিকে টানছিল।

কিন্তু বাস্তবের বুকে সেই রসায়নই এখন রূপ নিয়েছে তীব্র অশান্তির। কয়েক মাস আগে দিতিপ্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে জানান, জিতুর পাঠানো কিছু ম্যাসেজ তাঁকে গভীরভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে। অভিযোগ, AI-জেনারেটেড ঘনিষ্ঠ ভিডিও, কিছু অনুপযুক্ত মন্তব্য, এমনকী হাসপাতাল যাওয়ার কথা শুনে ‘প্রেগন্যান্ট’ কিনা—এমন প্রশ্নও নাকি করেছিলেন জিতু। দিতিপ্রিয়ার দাবি, তিনি এসব ‘ইয়ার্কি’ মেনে নিতে পারেন না, তাই একসঙ্গে শট দেওয়াই কঠিন হয়ে উঠেছে।

মাঝে প্রযোজনা সংস্থা বিষয়টি থামিয়ে দিলেও, কয়েক দিন ধরেই আচমকা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক। এর মধ্যেই নায়ক-নায়িকার অসুস্থতার সময় পরস্পরের জন্য শুভকামনা দেখানো—এসবই পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেছিল। কিন্তু শুক্রবারের গোলমালের পর শনিবারও কাজ হয়েছে; যদিও দিতিপ্রিয়া দেরিতে পৌঁছেছিলেন। জানা যাচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ নন জিতু, তবুও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘গুসা করে লাই গোপাল…’- দর্শকদের মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য গোপাল-রুক্মিনীর প্রেম! লন্ডনের প্রসাদ ছেড়ে গোপালের বুকেই সুখ খুঁজে পেল রুক্মিনী!

আর এই সব কিছুর মধ্যেই ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে লেখেন জিতু—তাঁর বিরুদ্ধে নাকি বলা হচ্ছে তিনি মহিলা সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার যোগ্য নন, অসুস্থতার অভিনয় করছেন, এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও ১০ ঘণ্টা শুটিং করছেন—এ সবই নাকি তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ। জিতুর আক্ষেপ, সব অভিযোগই তাঁকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং এর পর তিনি নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন—এভাবে কি তাঁর আত্মসম্মান বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে না? তাই বাধ্য হয়েই হয়তো তাঁকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Back to top button