কাছের মানুষকে হারিয়ে সুদীপের কণ্ঠে বেদনার সুর! ‘চিরতরে মাকে হারিয়ে ফেললাম…’- কান্নায় ভেঙে পড়লে অভিনেতা! শোকোস্তব্ধ বিনোদন জগৎ!

বাংলা মঞ্চ ও অভিনয় জগতের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ভদ্রা বসু আর নেই। প্রায় ৬৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। কয়েক দিন আগে আচমকাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। জরুরি অস্ত্রোপচারের পরও পরিস্থিতি আর স্থিতিশীল হয়নি। শুক্রবার গভীর রাত প্রায় ১২টা নাগাদ ইতি ঘটে এই বহুমুখী শিল্পীর জীবনযাত্রার। তাঁর প্রয়াণে থমথমে শিল্পীমহল, স্তব্ধ কাছের মানুষজন।

ভদ্রা বসু ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যপরিচালক অসিত বসুর স্ত্রী। তাঁদের দুই মেয়ে দামিনী বেণী বসু এবং আনন্দী বসু—দু’জনই মঞ্চ ও পর্দার পরিচিত নাম। দামিনীর প্রাক্তন স্বামী সুদীপ মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন ভদ্রার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন সত্ত্বেও ভদ্রা তাঁর কাছে ছিলেন যেন নিজের মা-ই। তাই মৃত্যুসংবাদ শোনার পর সুদীপের কণ্ঠে স্পষ্ট বেদনার ছাপ। তিনি বলেন, “নিজের মা-বাবাকে হারানোর পর মাকে (ভদ্রা) আর বাবাকে নিজের জীবনে নতুন করে পেয়েছিলাম। মা সব বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করতেন। ওঁর মতো প্রাণবন্ত, স্নেহময় মানুষ খুব কম দেখি।”

নিমতলা ঘাটে ভদ্রার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন বহু সহকর্মী ও অনুরাগী। শিল্পীদের উপস্থিতি বোঝাচ্ছিল, ভদ্রা শুধু একজন অভিনেত্রী বা পরিচালক নন—তাঁকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল আরও বড় এক পরিবার। মঞ্চ, আলো-আঁধারির আড়ালে বহু মানুষকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন, করে তুলেছেন আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ এবং স্নেহময় আচরণ তাঁকে বিশেষ করে তুলেছিল।

শিল্পী মহলে ভদ্রার মৃত্যুসংবাদ ছড়াতেই শোকবার্তা আসতে থাকে একের পর এক। অভিনেত্রী স্বাগতা মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা—“মঞ্চে প্রথম ‘গওহরজান’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম ওঁর নির্দেশনায়। আমার নিজের নাটক দেখতে এসে খুব প্রশংসা করেছিলেন। ওঁর এই উৎসাহ পাওয়াটা ছিল বড় শক্তি।” অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণ করেন ভদ্রার আরেক দিক—“অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর দারুণ দখল ছিল। মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুর ধরলে সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনত।”

মঞ্চনাটক ছাড়াও টেলিভিশন সিরিজ় এবং সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি ছিল দৃষ্টিনন্দন। সুমন মুখোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা কিংবা অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের বেলা—এই ধরনের কাজগুলোয় তাঁর অভিনয় দক্ষতা নতুনভাবে নজর কাড়ে। বহু জনপ্রিয় নাটক পরিচালনার পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল দর্শকসংখ্যার হৃদয়ে অক্ষয় জায়গা।

আরও পড়ুনঃ নতুনের অপমানে ছেলেকে যোগ্য জবাব দিল কমলিনী! ছেলের বিয়ের দিনই আরও একবার বিয়ের পিঁড়িতে কুরচি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

ভদ্রা বসুর প্রয়াণে বাংলা সাংস্কৃতিক দুনিয়া হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ নারী, এক শিল্পী, এক মমতাময়ী মানুষকে। তাঁর স্মৃতি, তাঁর সৃষ্টিকর্ম এবং তাঁর হাসি—থেকে যাবে, বারবার মনে পড়বে। শিল্পীমহলের শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়, কারণ ভদ্রা বসুর মতো মানুষরা থেকে যান চিরকাল, কাজের মধ্যে, গল্পের ভিতর, ভালোবাসার স্মৃতিতে।

Back to top button