‘জেলে সে’ক্সটাই শাস্তি, তবুও জেদ করে দুই কয়েদির বিয়ে দিয়েছিলাম!’ সম্মুখীন হয়েছেন নানান অভিজ্ঞতার! তার মধ্যে একটা ভাগ করে নিলেন জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব প্রদীপ ভট্টাচার্য!

বাংলার জনপ্রিয় কিংবদন্তি নাট্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য (Pradip Bhattacharya)। তবে শুধুমাত্র মঞ্চ অভিনেতা নয়, তিনি একজন ভারতীয় বাঙালি নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি জেল বন্দী অপরাধীদের জেলের বাইরে পুলিশি পাহারা ছাড়াই তাদের মূলস্রোতে আনতে “থিয়েটার থেরাপি ইন প্রিজনস” প্রকল্প শুরু করেছে।
তিনি কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্য বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে পড়াশুনা করেছে। পরে ভারত সরকারের সংস্কৃতি বিভাগ অধীনস্থ সিসিআরটি তথা সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং প্ৰশিক্ষণ কেন্দ্ৰের সিসিআরটি জাতীয় বৃত্তি এবং সিনিয়র ফেলোশিপ লাভ করেন। বহু বছর ধরে নাটকের সাথে যুক্ত রয়েছেন অভিনেতা। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বহরমপুরের সংশোধনাগারে ২৪ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের নিয়ে থিয়েটার থেরাপি-র কাজ শুরু করেন। তাদের নিয়ে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর জেলের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে মঞ্চস্থ করেন রবীন্দ্রনাথের তাসের দেশ।
নিজের নাট্য জীবনে তিনি কয়েদিদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে এবং এই কাজে তিনি নিজেকে একজন নাট্যকর্মী হিসাবে পরিচয় না দিয়ে একজন সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ১০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য নাটক, ৬টি ছোট নাটক এবং শিশুদের জন্য ১০টি নাটক লেখেন। তিনি গত ৫০ বছরে ৪০টি নাটক পরিচালনা করেছেন। এছাড়া তিনি নিজে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি নাটকে অভিনয় করেছেন।
আর সেই আসামিদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একাধিক অভিজ্ঞতা হয়েছে অভিনেতার। নানাধরনের আসামিদের নিয়ে কাজ করেছেন। তাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। নাটক যে কেবল দেড়-দু’ঘণ্টার বিনোদন নয়। নাটক যে মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, সে কথা প্রমাণ করে ছেড়েছেন প্রদীপ। কয়েদিদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ভালো অভিনেতা হলেই কাজ পাওয়া যায় না…পেছনে আরো অনেক অঙ্ক আছে’- অভিনয় করেই চলছে ঘর, জুটছে ভাত! কাজ পাওয়ার জন্য কি কি করতে হয়েছে অনিন্দ্য ব্যানার্জিকে?
সাক্ষাৎকারে একবার সেরকম এক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। অভিনেতা বলেন, ‘ফিজিক্যালি জেলে ছেলে মেয়ে এক হওয়া যায় না। জেলে সেক্সটাই হচ্ছে শাস্তি। আর ওই জেলের সবাই এমন যে বাপের কাছে ধরা পড়ে গেছে বারবার। আমি ওদের বাবার মতনই। এমনও হয়েছে জেলের মধ্যে প্রেম হয়েছে সেটাও এই বাপের কাছে এসেই বলেছে। আমি তখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম এরমধ্যে মিথ্যাচার নেই তো, আমার পা ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, আমার মা বছরে একবার দেখতে আসে। আর তুমি যা দেখো। মা টা কবে মরে যাবে আমার তো আর কাঁদার কেউ থাকবে না। আমি সারাজীবন জেলেই থাকবো ফলে আমি বিয়ে করতে চাই। তাহলে জেলের ওই পারে কাঁদার তো লোক থাকবে।’ এমন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিতে গিয়ে অভিনেতার চোখও ছলছল করে উঠেছিল।

