‘কে ইমন? আমি ইমনের নামটাও শুনিনি…’- প্রকাশ্যে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়! জনপ্রিয় গায়িকাকে নিয়ে বিস্ফোরক! কেন এমন বললেন পরিচালক তথা অভিনেতা?

‘আমি ইমনের নামটাও শুনিনি…’—এমন কথাই খোলামেলা জানালেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়! বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি পরিচিত ‘অন্য ধারার’ ছবির নির্মাতা হিসেবে। তাঁর ছবিতে নতুন মুখ, নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়ার কথা সকলেই জানেন। কিন্তু এ বার স্বয়ং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী ইমন চক্রবর্তীকেই নিয়ে এমন চমকে দেওয়া মন্তব্য করলেন পরিচালক!

২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির অসামান্য ছবি ‘প্রাক্তন’। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার রসায়নে ভরপুর এই ছবির জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিল এর গানও। বিশেষ করে ‘মি যাকে ভালোবাসো’—এমন মিষ্টি রোমান্টিক গান শোনার পরই রাতারাতি আলোচনায় আসেন ইমন চক্রবর্তী। জাতীয় পুরস্কারও ঝুলিতে ভরেছিলেন তিনি। অথচ জানলে অবাক হবেন—এই ইমনকেই ছবির আগে একেবারেই চিনতেন না শিবু দা!

সম্প্রতি রিলাক্স স্টুডিও ইন্ডিয়া ৯১-এর একটি ভিডিওতে শিবপ্রসাদ জানিয়েছেন, যখন ছবির জন্য একজন মহিলা কণ্ঠের দরকার হচ্ছিল, তখন সঙ্গীত পরিচালক অনুপম রায় তাঁকে দু’জন গায়িকার ডেমো পাঠান। সেই দু’জনের কণ্ঠই আগে কখনও শোনেননি পরিচালক। চোখে দেখতেও পাননি কাউকে! শুধু কান শুনে, গলার স্বর ভালো লাগায় তিনি ইমনকে বেছে নেন। তাঁর কথায়—“আমি শুধু যার গলায় গানটা ভালো লেগেছে তাকেই নির্বাচন করেছি, আর কিছু নয়।”

শিবপ্রসাদ আরও জানান, তখন তাঁর কাছে প্রথম কণ্ঠটাই বেশি মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। যাকে বাদ পড়তে হল, তাকেও চিনতেন না তিনি। নতুন শিল্পীদের ক্ষমতার প্রতি তাঁর ভরসারই প্রমাণ যেন এই সিদ্ধান্ত। আজ তা সবারই জানা—সেই একটাই সুযোগে ফিনিক্সের মতো উড়ে উঠেছেন ইমন। হয়ে উঠেছেন বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ।

আরও পড়ুনঃ ‘বিধবারা কি মানুষ না? তারা কি শুধুই অভিশাপ?’- কেন রংহীন বিধবা নারীদের জীবন? সমাজের সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে আসছে অভিনেত্রী শতাক্ষী নন্দীর “পিঞ্জর”

তারকা-ঠাসা ‘প্রাক্তন’-এ প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, অপরাজিতা আঢ্যর পাশাপাশি ছিলেন মানালি দে, বিশ্বনাথ বস, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়—কারও উপস্থিতির ঘাটতি ছিল না। তবুও দর্শকের মনে যেমন ছবি জায়গা করে নিয়েছিল, তার থেকেও বেশি দাগ কেটেছিল গান। আর সেই গানই তৈরি করেছিল এক নতুন তারকা—ইমন চক্রবর্তীকে। সুযোগের দরজা ঠিক কোথায় খুলে যায়, কে জানে? তবে শিবপ্রসাদের সেই ‘না-দেখেই’ নেওয়া সিদ্ধান্তেই শুরু হয়েছিল এক সুরেলা অধ্যায়, যা আজও বাংলা সিনেমার সংগীতভুবনে স্মরণীয়।

Back to top button