বাবার অমতে বিয়ে! হয়েছেন পরিবারের রাজ্য কন্যা হয়ে! একা লড়েই জীবন গড়েছেন ‘গৃহপ্রবেশ’-এর ঠাকুমা কুমকুম ভট্টাচার্য!

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, আজও ছোটপর্দায় প্রতিদিন দর্শকের মন জয় করছেন কুমকুম ভট্টাচার্য। ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকে ঠাকুমার চরিত্রে তাঁকে দেখা যাচ্ছে এখন। কিন্তু পর্দার আড়ালে তাঁর জীবন যেন এক সিনেমার গল্প—সংগ্রাম, সাহস আর আত্মসম্মানের মিশেলে তৈরি এক নারীজীবন।
সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের জীবনের এক টুকরো স্মৃতি শেয়ার করতেই আলোড়ন পড়ে যায়। সেখানে কুমকুম লিখেছেন, কীভাবে বাবার অমতে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাঁর পরিবার ছিল গভীরভাবে গোঁড়া, তাই অব্রাহ্মণ পাত্রকে বিয়ে করায় ঘরে আর ঠাঁই হয়নি তাঁর। তবু প্রেম আর নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন অভিনেত্রী। বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানটুকু কখনও বিকিয়ে দেননি তিনি।
আনন্দবাজার অনলাইনকে কুমকুম বলেন, “ছোটবেলায় নিজেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কখনও ব্রাহ্মণ ছেলেকে বিয়ে করব না। বাবার কাছে সেটা ছিল অপরাধ। তাই বিয়ের পর কোনও যোগাযোগ রাখিনি। জীবন সহজ ছিল না, কিন্তু কখনও কারও কাছে হাত পাতিনি।” তিনি জানান, যখনই বিপদ এসেছে, তখন এক এক করে নিজের সোনার গয়না বিক্রি করেছেন, কিন্তু সাহায্যের জন্য কারও দরজায় কড়া না নেড়েই লড়েছেন নিজের লড়াই।
এমনকি এক সময় তপন সিংহের ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হওয়াতেও তাঁর পরিবার রুষ্ট হয়। মাসি-পিসিরা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেই সময় থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদ আরও পোক্ত হয় তাঁর মধ্যে। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে নিজের সিদ্ধান্তেই এগিয়েছেন তিনি—না আছে অনুতাপ, না আছে অভিমান।
আরও পড়ুনঃ অরণ্যর বিপদে পাশে দাঁড়ালো ফুলকি! প্রাক্তন প্রেমিকাকে দেখে ভয়ে শুকিয়ে গেল অরণ্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
এখন কুমকুম একাই থাকেন, নিজের মতো করে। পাশে আছেন তাঁর মেয়ে, যিনি কাছেই থাকেন। সময় কাটে অভিনয়ে, যোগাভ্যাসে আর রান্নাবান্নায়। “একা থাকাটা এখন আমার পছন্দ,” বলেন অভিনেত্রী, “সব হারিয়েও আমি ভাল আছি, কারণ নিজের মতো করে বাঁচতে শিখেছি।” এই সাহসী নারী তাই আজও অনুপ্রেরণা—পর্দার ঠাকুমা নয়, বাস্তবের এক যোদ্ধা।

