বিনোদন দুনিয়ায় শোকের ছায়া! পৃথিবীকে চিরবিদায় জানিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা! অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন চলচ্চিত্র জগৎ!

বিনোদন দুনিয়ায় ফের নেমে এসেছে অন্ধকার। শনিবার ভোরেই ছড়িয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর খবর—চলে গেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা। ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে শোক আর অবিশ্বাসের ঢেউ। দক্ষিণ থেকে বলিউড, এমনকি আন্তর্জাতিক মহলেও শুরু হয় শোকবার্তার বন্যা। সহ-অভিনেতারা স্মৃতিচারণায় জানিয়েছেন, “তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি ছিলেন এক যুগের প্রতীক।” তাঁর হাসি, তাঁর সৌন্দর্য আর পর্দায় অসাধারণ উপস্থিতি আজও দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। অনেকেই ভেবেছিলেন, অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি ফের ফিরে আসবেন পর্দায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই আর হলো না।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন সামান্থা। মাঝে কিছুটা সুস্থও হয়েছিলেন, কিন্তু শেষদিকে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শেষ মুহূর্তে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবরটি সামনে আসতেই যেন স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। সহকর্মীরা জানান, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন মানসিকভাবে দৃঢ়, কখনও হার মানেননি নিজের পেশার প্রতি ভালবাসায়। তাঁর শেষ কাজ নিয়েও চলছিল আলোচনার ঝড়, কারণ তিনি চেয়েছিলেন একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করে জীবনের পথচলা শেষ করতে—যা আর সম্ভব হলো না।

অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর প্রথম সামনে আসে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর মেয়ে, অভিনেত্রী জেনা স্টার্ন। আবেগঘন এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার মা মারা গেছেন। শান্তিতে, পরিবারের সদস্যদের ঘিরে। আমি তাঁর হাত ধরে বলছিলাম কতটা ভালোবাসি। এটা ছিল এক আশীর্বাদ।” পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে, মন্তব্যের ঘরে জড়ো হতে থাকে হাজারো শোকবার্তা। সামান্থার অনুরাগীরা লিখেছেন—“শৈশবের পর্দার দেবী আজ আর নেই”, “একটা যুগের অবসান ঘটল আজ।”

তবে পরবর্তীতে জানা যায়, এই সামান্থা আর কেউ নন—ব্রিটিশ কিংবদন্তি অভিনেত্রী সামান্থা এগার (Samantha Eggar)। মাত্র কুড়ির কোঠায় পা রাখতেই তিনি আন্তর্জাতিক সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে উইলিয়াম ওয়াইলার পরিচালিত থ্রিলার “দ্য কালেক্টর”-এ অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারের জন্য মনোনীত হন। সেই ছবিতে টেরেন্স স্ট্যাম্পের বিপরীতে তাঁর অসামান্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এর ঠিক পরের বছর, ক্যারি গ্রান্টের শেষ ছবি “ওয়াক ডোন’t রান”-এ তিনি অভিনয় করেন, যেখানে তাঁর চরিত্রটি ছিল সংযমী অথচ গভীর আবেগে ভরা। পরবর্তীতে “ডক্টর ডোলিটল” ছবিতে রেক্স হ্যারিসনের সঙ্গে তাঁর রসায়নও হয়েছিল প্রশংসিত।

আরও পড়ুনঃ এক হাতে বই আর অন্য হাতে বেত! নারীর শরীরে উঠে আসা নোংরা হাত ভেঙে গুড়িয়ে দিতে আসছে প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি! প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ প্রোমো!

সামান্থা এগারের জীবনের পথচলা ছিল সমৃদ্ধ ও অনুপ্রেরণামূলক। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন অভিনেতা টম স্টার্নের সঙ্গে। তাঁদের এক কন্যা—অভিনেত্রী জেনা স্টার্ন, এবং এক পুত্র—চলচ্চিত্র প্রযোজক নিকোলাস স্টার্ন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। শেষ জীবনে যদিও তিনি পর্দা থেকে দূরে ছিলেন, কিন্তু তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য আর পরিমিত অভিব্যক্তি আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান। চলচ্চিত্র দুনিয়া বলছে—“সামান্থা এগার চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর শিল্পচেতনা বেঁচে থাকবে চিরকাল।”

Back to top button