অরণ্যর সাথে ফুলকির বিয়ে! অরণ্যকে কি মেনে নেবে ফুলকি! অরণ্যর আসল পরিচয় জানতে পেরে কেঁপে উঠলো রায়চৌধুরী পরিবার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

একজন সাধারণ মেয়ের বক্সার হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে শুরু হয়েছিল জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক ফুলকি (Phulki)। যদিও বর্তমানে ধারাবাহিকের গল্প অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। জানা গিয়েছে সাধারণ গরিব ঘরের মেয়ে ফুলকি আসলে রাজমহলের রাজকুমারী। সেই নিয়ে এগোচ্ছে ধারাবাহিকের গল্প। নিজের আসল জন্ম পরিচয় জানার পরেও একের পর এক লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে ফুলকিকে। ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্বই এখন টানটান উত্তেজনা পূর্ণ হচ্ছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক আগামী পর্বে কি হতে চলেছে।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ফুলকির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই সঠিক হয়নি বলে মনে করে সকলে। বিচারক জানিয়ে দেয় মধ্যাহ্ন ভোজের পর বাকি যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে তারা। ধানু, অংশু বোঝায় রাগের মাথায় ফুলকি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছে। কিন্তু এখন তো আর এই সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে আসার সময় নেই।

ওদিকে অরণ্য হাসপাতালে গিয়ে প্রমাণ জোগাড় করে। প্রথমে ডাক্তার মুখের উপর সরাসরি জানিয়ে দেয় রুদ্রর অবস্থা সঙ্কটজনক তাকে বাঁচানো যাবে কিনা সেই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু আসলে রুদ্র কোন চিকিৎসাতেই সাড়া দিচ্ছে না। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই চমৎকার করেন নৃসিংহ দেব। ফুলকির ওপর তার যে আশীর্বাদের হাত রয়েছে সেই প্রমাণ তিনি বারবার দিয়েছেন। ডাক্তার জানিয়ে দেয় রুদ্র ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে, তার জ্ঞান ফিরছে। এরপর সুস্থ হবার পরেই রুদ্রকে নিয়ে যাওয়া হয় কোর্টে। ফুলকি আবারো নিজের বুদ্ধি দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে বেরিয়ে আসে ঠিক। বাড়িতে আসার পর তো সকলেই তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বড় রাণী নৃসিংহ দেবের কাছে অনেকবার প্রার্থনা করছিলেন মেয়ের জন্য। ফুলকি জানিয়ে দেয় সে জানতো সে নিজেকে নির্দেশ প্রমাণ করবে। কারণ তার উপর নৃসিংহ দেবের আশীর্বাদের হাত ছিল।
তবে বাড়ি আসার পর ফুলকি আদিত্যকে বলে ছোট রাণী এবং ছোট রাজকুমারকে ডেকে আনতে। কারণ ফুলকি ভালো মতোই জানে রুদ্রকে আশ্রয় দেওয়ার পেছনে তাদের দুজনের হাত রয়েছে। তারা নিশ্চয়ই জানতো রুদ্রর সম্পর্কে। আদিত্য প্রথমে সংকোচ করছিল নিজের মা এবং ভাইকে যতটা সম্ভব বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু ফুলকি কোন কথাই শুনছিল না। তারপরে ছোট রাণী এবং ছোট রাজকুমার নিজেই সেখানে এসে উপস্থিত হয়। আর তাদের সমস্ত কথা শুনে ফেলে, ছোট রাণী তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য আবারও চিৎকার করে মিথ্যে কথা বলতে থাকে। সেখানে উপস্থিত হয় সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের সামনে ফুলকিকে অপমান করার উদ্দেশ্য ছিল তার। কিন্তু উল্টে আদিত্যই সাংবাদিকদের সামনে মা এবং ভাইয়ের মুখোশ টেনে খুলে দেয়।
আরও পড়ুনঃ সুদীপার বাড়িতে শো’কের ছায়া! নিখোঁজ পরিবারের সদস্য! ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী! উঠছে নৃ’শং’সভাবে খু’নের অভিযোগ! রহস্য উদঘাটনে আইনের দ্বারস্থ তিনি এবং তার পরিবার!
ওদিকে সুনন্দা দেবী লোক পাঠিয়েছে ফুলকিকে আবার মন্ত্রী পদে বসানোর জন্য। ফুলকি প্রথমে নাকোচ করে দিয়েছিল তার এই প্রস্তাব, কিন্তু যখন দেখে জনগণ ফুলকিকে নিজেদের পাশে চাইছে তখন ফুলকি আর মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা নেয় রুদ্রকে যতক্ষণ না জেলে পাঠাতে পারছ, নিজের চোখে দেখছে ততক্ষণ তার শান্তি নেই। পরের দিন রুদ্রকে হাসপাতাল থেকে একেবারে জেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে অংশ। ফুলকিরাও সেখানে উপস্থিত হয়। ফুলকি রুদ্রকে ভালো মতো বুঝিয়ে দেয় আর যদি কোন রকম বাড়াবাড়ি রুদ্র করে তাহলে রুদ্রকে আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না। রুদ্র ফুলকিকে আবারো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যায়। ভাঙবে তবু মচকাবে না। এদিকে বাড়িতে ধানু এবং লাবণ্য মিলে তমাল পিয়ালদের সাথে ফুলকি আর অরণ্যর বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ফুলকি তো এসব কিছু ভাবতেই পারে না। দেখা যাক কি হয় আগামী পর্বে।

