লন্ডনে স্বপ্নের চাকরি! মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে অন্বেষা! মেয়েকে বড় করার একলা লড়াইয়ে বিজয়িনী স্বস্তিকা!

অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের খবর এখন তাঁর মেয়ে অন্বেষা। ছোটবেলা থেকেই মায়ের চোখে তিনি ছিলেন “রাজকন্যা”, আজ সেই মেয়ে লন্ডনে নিজের স্বপ্নের চাকরি পেয়েছেন। গর্ব, আবেগ আর ভালোবাসায় ভরা পোস্টে এই খবর ভাগ করে নিয়েছেন স্বস্তিকা নিজেই। তাঁর জীবনের সব লড়াই, পরিশ্রম, একাকিত্ব—সব যেন আজ অর্থ পেল মেয়ের এই সাফল্যে।

স্বস্তিকা নিজের জীবনের গল্প আগেও বলেছেন। কলেজে পড়াকালীন মা হয়েছিলেন তিনি। বিয়ে টেকেনি, দুই বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। তারপর একাই অন্বেষাকে বড় করেছেন, পাশে পেয়েছেন নিজের বাবা-মা’কে। একা মা হয়েও কখনও মেয়ের স্বপ্নে বাধা দেননি। বরং প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে সাহস জুগিয়েছেন। অন্বেষা ছোট থেকেই জানত, সে অভিনয়ে নয়, অন্য পথে নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়। সেই মতোই সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছে সে।

কলকাতার সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশন্যাল স্কুল থেকে মাধ্যমিকের পর মুম্বইয়ের সোফিয়া কলেজে সাইকোলজি আর সোসিওলজি নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে অন্বেষা। এরপর স্কলারশিপে পাড়ি দেয় যুক্তরাজ্যে। কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি থেকে সাইকোলজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করে। এখন লন্ডনে নিজের পছন্দের চাকরি পেয়েছে। মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত মা লিখেছেন, “মানি সাইকোলজিতে এম.এস.সি করে এখন কার্ডিফ থেকে লন্ডন পাড়ি দিল। নিজের চেষ্টায় সফল হয়েছে। এত বড় ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পেয়ে, মাসের পর মাস ইন্টারভিউ দিয়ে অবশেষে ওর মনের মতো চাকরি পেয়েছে ওর প্রাণের শহরে।”

স্বস্তিকা আরও লেখেন, “সন্তানেরা যা হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তাদের সেই পথে হাঁটতে দেখাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমার মেয়ে আবেগে আমায় ধন্যবাদ দিতে এলেই বলি, সব তুমি করেছ মা আমার। আমি শুধু বটগাছের মতো ছায়া দিয়েছি।” এই কয়েকটি লাইনে যেন প্রতিটি মায়ের অনুভূতি মিশে আছে। সন্তানদের জীবনে আলো থাক, আতশবাজির মতো ঝলমল করুক তাদের স্বপ্ন—এই কামনাই তাঁর।

অভিনেত্রীর মতে, দামী বাড়ি বা গাড়ি কেনা নয়, মেয়ের ভবিষ্যৎই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তাই তিনি সবসময় সঞ্চয় করেছেন অন্বেষার জন্য। মেয়ের প্রিয় জায়গা ছিল ইংল্যান্ড, ছোটবেলা থেকেই বলত, “মা, আমি একদিন এখানে পড়াশোনা করব, চাকরি করব, তুমি তখন আমার সঙ্গে থাকবে।” সেই শিশুসুলভ প্রতিশ্রুতিই আজ বাস্তব। স্বস্তিকার কথায়, “সন্তানের যেখানে পড়ার ইচ্ছে, মা হয়ে আমি যেন সেটা পূরণ করতে পারি—এই চিন্তাই আমায় এগিয়ে নিয়ে গেছে।”

আরও পড়ুনঃ ‘ব্লাউজ পরে হিরো হওয়া যায় না!’- জনপ্রিয় পরিচালকের থেকে শুনতে হয়েছে কটাক্ষ! ‘গুণ্ডা হয়ে খালি মার খেতাম…’- অকপটে সাগ্নিক চ্যাটার্জি!

আজ অন্বেষা লন্ডনে নিজের জায়গা তৈরি করেছে, আর স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় শুধু একটাই কথা বলছেন—“এই সাফল্য সম্পূর্ণ ওর প্রাপ্য।” একা মা হয়েও তিনি যে কীভাবে সন্তানকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন, স্বস্তিকা আর অন্বেষা তার জীবন্ত উদাহরণ।

Back to top button