‘ছেলের বাঁচানোর জন্য আমি বাধ্য হয়েছি, আমার মৃ’ত্যুর পরেও…’- স্ত্রীর অসুস্থতায় কেন পাশে থাকেননি অভিনেতা? অকপটে কৌশিক ব্যানার্জি!

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood Industry) ৮০ ৯০ দশকের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন কৌশিক ব্যানার্জি (Kaushik Banerjee)। বেশিরভাগ ছবিতে অভিনেতাকে আমরা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছি। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পজিটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও বড় পর্দার পাশাপাশি বিভিন্ন ধারাবাহিকেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে অভিনেতাকে। নিজের অভিনয় জীবনে সফল একজন অভিনেতা কৌশিক বাবু।
তবে যে অভিনেতা নিজের অভিনয় জগতে এতটা সফল সে অভিনেতার জীবনেই রয়েছে অনেক না পাওয়া। অনেক কিছু হারিয়েছেন অভিনেতা নিজের জীবনে। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন গায়ক শ্যামল মিত্র’র মেয়ে মনোবীণা মিত্র। বিয়ের প্রথম কয় বছর বেশ সুখ-শান্তি পেয়েছিলেন তারা। তাদের এক পুত্র সন্তান ছিল। বিয়ের ১২ বছর পর হঠাৎ তাদের বৈবাহিক বিচ্ছেদ হয়। দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। জানা যায় একসময় নাকি প্রথম স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
যার জন্য তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের সাথে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সময়টা অনেক কষ্টে কেটেছে অভিনেতার।ছেলেকে নিয়ে একাই থাকতেন। তার কয়েকবছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন কৌশিক। অভিনেতার আলাপ হয় অভিনেত্রী লাবনী সরকারের সঙ্গে। দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন দুজনে। তবে প্রথম স্ত্রীয়ের সঙ্গে ডিভোর্সের পর অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে অভিনেতাকে। অনেক খারাপ কথা শুনতে হয়েছে একসময়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসে অভিনেতা জানিয়েছেন, ‘আমার কাছে সেই সময় কোন আর উপায় ছিল না। আমার প্রথম স্ত্রীর অবস্থা এতটাই অবনতির দিকে চলে যাচ্ছিল যে তখন আলাদা না হলে আমি আমার ছেলেকে মানুষ করতে পারতাম না। আর তখন আমার ছেলেকে মানুষ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তাছাড়া আমি ভয় পেতাম যদিও নিজের কোন ক্ষতি করে ফেলতে তাহলে আমার ছেলেটার কি হবে। দীর্ঘ ১০ বছর আমি এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং তারপরে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আরও পড়ুনঃ ‘তাপস চলে গিয়েছে, এবার আমার পালা…দয়া করে একটা কাজের সুযোগ দিন!’- অর্থাভাবে আটকে গিয়েছে চিকিৎসা! চরম দুর্দশায় জর্জরিত দেবশ্রী রায়ের এককালীন নায়ক তুহিন ব্যানার্জি!
অভিনেতা আরও বলেন, ‘ছেলের জীবনটা মানুষ করার জন্য যদি আমাকে স্বার্থপর বলা হয় তাহলে আমি স্বার্থপর, আর যুগে যুগে আমি এরকম স্বার্থপর হয়েই জন্মাতে চাই। আমি আমার ছেলেকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম তাই ডিভোর্সের পরেও ওর যা যা প্রয়োজনই আমি সবকিছু দিতে রাজি ছিলাম এবং আমি কথা দিয়েছিলাম আমার মৃত্যুর পড়ো আমার প্রথম স্ত্রীর কোনো রকম অসুবিধা হবে না।’ প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অনেকে অভিনেতাকে অনেক খারাপ কথা বলেছিলেন, ভুল বুঝেছিলেন, সমালোচনা করেছিলেন। যদিও সে সমস্ত পরিস্থিতি থেকে এখন নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা।

