বিচ্ছেদ হলেও মোছেনি সিঁথির সিঁদুর! কটাক্ষের জবাবে দৃঢ় কণ্ঠে পৃথা: “এটা আমার ইচ্ছা, আমার বিশ্বাস”

বিনোদন জগতের মতো আলো-আঁধারির দুনিয়ায় ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন সবার কৌতূহলের বিষয়। বিয়ে, প্রেম, বিচ্ছেদ—সব খবরই ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই বছর সেই ঝড়ে নাম জড়িয়েছিল অভিনেত্রী পৃথা চক্রবর্তীর। স্বামী সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা নিজেই প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন এরপর হয়তো নিজের জীবনে কঠোর এক সীমারেখা টানবেন পৃথা, কিন্তু তা হয়নি। বরং আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও স্বতন্ত্র এক নারীকে চিনেছেন তাঁর অনুরাগীরা।

বিজয়ার দিনে দেবীবরণে অংশ নিয়ে লালপাড় সাদা শাড়ি আর সিঁথিভর্তি সিঁদুরে নিজের ছবি পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তেই শুরু হল সমালোচনা। কেউ লিখলেন, “ডিভোর্স হয়ে গেছে, তবু সিঁদুর?” কেউ বললেন, “এটা অভিনয় না বাস্তব?” এসব প্রশ্নে নেটমাধ্যমে যেন আবারও তোলপাড়। কিন্তু চুপ না থেকে, বরং দৃঢ়ভাবে জবাব দিলেন পৃথা। এক লম্বা পোস্টে তিনি লিখলেন, “সিঁদুর মেখে ব্যঙ্গাত্মক মুখে একটা ছবি দিয়েছিলাম, নিছক মজা করে। মা দুর্গাকে বরণ করার ছবি ছিল ওটা।”

পৃথা আরও লিখেছেন, “হ্যাঁ, আমার ডিভোর্স হয়েছে। তবু আমি সিঁদুর, শাঁখা, পলা পরেছি কারণ এটা আমার ইচ্ছা। কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমি মা দুর্গাকে বরণ করি, মানে পরিবারের সকলের মঙ্গল চাই। আমি চাই আমার দুই সন্তান এবং তাদের বাবার মঙ্গলও। আমরা আর একসঙ্গে না থাকলেও, আমরা আজও বাবা-মা।” এই কথাগুলো যেন শুধু জবাব নয়, এক গভীর বার্তা—সম্পর্ক শেষ মানেই সম্মান বা শুভকামনা শেষ নয়।

পৃথা জানিয়েছেন, তিনি এসব মন্তব্য পড়ে ক্ষুব্ধ নন, বরং খানিক মজা পান। তাঁর কথায়, “বিশ্বাস করুন, এই মন্তব্যগুলো পড়তে আমার ভালো লাগে। অনেকে হয়তো রাস্তায় আমায় দেখলে সেলফি তুলতে চাইবেন। তাই বলি, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ট্রোল করুন, তবে ধীরে ধীরে, তাড়াহুড়ো করবেন না।” হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আত্মবিশ্বাসই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তর।

এই একটি পোস্টেই স্পষ্ট হয়ে গেল, পৃথা কারও মান্যতা পেতে নয়, নিজের বিশ্বাসে বাঁচেন। ব্যক্তিগত জীবনে ভাঙন এলেও তিনি মায়ের আশীর্বাদে, নিজের মতো করে উৎসব পালন করেন। তাঁর সিঁথির সিঁদুর কারও কাছে বিভ্রান্তি হলেও, তাঁর কাছে সেটা ভক্তি, শুভকামনা আর আত্মসম্মানের প্রতীক। সমাজ যা-ই বলুক, পৃথা দেখিয়ে দিলেন—একজন নারী নিজের পথ নিজেই বেছে নিতে জানে।

আরও পড়ুনঃ ‘এবারের পূজোটা আমার আর দেখা হলো না…’- পুজোয় হতাশা রাইমা! কলকাতা থেকে বহুদূরে অভিনেত্রী!

শেষমেশ পৃথার বার্তা স্পষ্ট: বিচ্ছেদ মানেই সম্পর্কের মৃত্যু নয়, বরং নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা। সিঁদুর বা শাঁখা কারও জন্য নয়, তাঁর নিজের বিশ্বাসের প্রতীক। আর বিশ্বাসের রঙ মুছে যায় না সহজে।

Back to top button