‘এসব পিছন চাটা গাধারা…’- উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের মাঝেও কার্নিভালে উপস্থিত অঙ্কুশ-শ্রাবন্তী-প্রসেনজিৎ! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রীলেখা মিত্র!

উত্তরবঙ্গের বুকে এখন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। টানা বৃষ্টিতে ডুয়ার্স-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। ভেসে গিয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়েছে ব্রিজ, বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। মৃত্যু মিছিল বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়। শুধু মানুষ নয়, বন্যপ্রাণীরাও রেহাই পায়নি। কোথাও জল আটকে দিয়েছে হাতিদের পথ, কোথাও গণ্ডার-হরিণেরা বাঁচার জন্য ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। এমন এক সময়, যখন গোটা উত্তরবঙ্গ শোক আর দুশ্চিন্তায় ডুবে, তখন দক্ষিণবঙ্গে দেখা গেল একেবারে অন্য চিত্র— উজ্জ্বল আলো, সঙ্গীত, আর নাচের উল্লাসে ভরা দুর্গাপুজোর কার্নিভাল।

রবিবার রাতে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজ্যের দুর্গাপুজো কার্নিভাল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী-নেতারা এবং টলিউডের একঝাঁক তারকা— প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, নুসরত জাহান, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ঐন্দ্রিলা সেন, জুন মালিয়া, তৃণা সাহা প্রমুখ। ঝলমলে পোশাকে নাচ-গানে ভরপুর সেই আয়োজন দেখে কেউ কেউ আনন্দ পেলেও, অনেকের কাছে এই উল্লাসের সময়টিই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, একই রাজ্যে যখন মানুষ বন্যায় ভেসে যাচ্ছে, তখন তারকারা মঞ্চে নাচছেন— এই বৈপরীত্যই ক্ষোভ জাগিয়েছে বহু মানুষের মনে।

এই ঘটনার পরই প্রতিবাদে সরব হলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। স্পষ্টভাষী হিসেবে বরাবরই পরিচিত তিনি। সোমবার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে শ্রীলেখা লিখলেন, “কার্নিভালের ছবি দেখতে দেখতে আনফ্রেন্ড করছি। আমার এদের শিল্পী বলতে ঘেন্না হয়। শিল্পীর মন সংবেদনশীল হয়, অন্যের কষ্টে কেঁদে ওঠে, অন্যায় দেখলে শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে। কিন্তু এরা? ধান্দাবাজ। এসব বলি বলে আমার কাজ নেই। এসব পিছন চাটা গাধাদের মতো হওয়ার চেয়ে আমি এরকমই থাকতে চাই।”0

তাঁর পোস্ট এখানেই শেষ নয়। আরও লিখেছেন, “তারপর আমাকে আর কতভাবে বয়কট করবেন, ভাবুন। মানুষ মরছে, আর এরা কাজ আর পয়সার জন্য নাচছে। ছিঃ ছিঃ।”তাঁর এই বক্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ সমর্থন করেছেন, কেউ সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শ্রীলেখা নিজের অবস্থানে অটল। তিনি মনে করেন, শিল্পীর কাজ শুধু বিনোদন দেওয়া নয়— সমাজের দুঃখ, বেদনা, অন্যায়ের প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করা উচিত শিল্পের মাধ্যমে।

আরও পড়ুনঃ নিজের কুকর্মের শাস্তি হাতেনাতে পেল টগর! পারুলকে ফাঁসাতে গিয়ে শাশুড়ির কাছে জব্দ হলো সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

এই ঘটনার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় চলছে তর্ক-বিতর্ক। কেউ বলছেন, উৎসবের আনন্দে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়। আবার অনেকে মনে করছেন, সহানুভূতি আর সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলছে আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতি। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট— উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় ও দক্ষিণবঙ্গের উল্লাসের এই বৈপরীত্য এক গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: আমরা কি সত্যিই একে অপরের দুঃখে কাঁদি, না কি শুধুই নিজেদের আনন্দে মগ্ন থাকি?

Back to top button