ভবানীপুরে ছাদের অলৌকিক দর্শন! তড়িঘড়ি লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন! ছাদে গিয়ে কি এমন দেখেছিলেন উত্তম কুমার?

বিনোদন জগতে তার নাম তখন নবীনতম, কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব আর কীর্তি ইতিমধ্যেই চমক দিচ্ছিল। মহানায়ক উত্তম কুমারের ভবানীপুরের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন যে কোনও সাধারণ উৎসবের চেয়েও আলাদা হয়ে উঠেছিল, তা বোধহয় তখন কেউ অনুমানও করতে পারত না। সাধারণত পূর্ববঙ্গের হিন্দু পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রথা প্রচলিত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাচীন চাটুজ্যে পরিবারে হঠাৎ এই পূজার আয়োজন কেন করা হলো, সেই রহস্যের পেছনে ছিল উত্তম কুমারের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।
এক শরৎ বিকেলে, উত্তম কুমার ভবানীপুরের বাড়ির ছাদে ঘুরছিলেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি পড়ল ছাদের কিনারায় বসে থাকা এক ছোট্ট মেয়ের দিকে। পা ঝুলিয়ে, নীরবে বসে থাকা সে মেয়ে কে? বাড়িতে তখন কেবল তাঁর ভাইঝি রত্না উপস্থিত ছিলেন। উত্তম কুমারের মনে একবারই ভয় দানা বাঁধল। এমন ঝুঁকি! তৎক্ষণাৎ তিনি রত্নার খোঁজ নিলেন, জানতে পারলেন সে তো ঘরে ঘুমাচ্ছে। এরপর অবাক হওয়ার মতো এক অনুভূতি তাঁকে আচ্ছন্ন করল।
কোজাগরীর দু’দিন আগে, যেন কোন অলৌকিক উপায়ে, একটি ছোট লক্ষ্মী পেঁচা এসে হাজির হয় ভবানীপুরের বাড়িতে। এ খবরের পর উত্তম কুমার বুঝতে পারলেন, ছাদের সেই ছোট্ট মেয়েটি আসলে কেউ নন, তিনি যেন সরাসরি দেবী লক্ষ্মীর দর্শন পেয়েছেন। দেবী যেন তাঁর আগমনের বার্তা পাঠাচ্ছিলেন, এবং সেই বার্তাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করল তড়িঘড়ি লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনের জন্য।
পুজোর প্রস্তুতি শুরু হল, আর এতে কোন অংশে ভ্রান্তি মানতেন না মহানায়ক। দেবী লক্ষ্মীর মুখের আদলেই তাঁর নির্দেশে তৈরি হলো প্রতিমার মুখ। জাঁকজমকের ভোগ-নৈবেদ্য সাজানো হল, কিন্তু দোকান থেকে আনা মিষ্টি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারত না। তাই নিজের বাড়িতে ময়রা ডেকে ভিয়েন বসালেন, যেখানে তৈরি হলো গরম গরম পান্তুয়া, লাড্ডু এবং আরও নানা স্বাদযুক্ত মিষ্টি। প্রত্যেকটি পদ যেন পবিত্র আর ভক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করেছিল।
আরও পড়ুনঃ মুষলধারে বৃষ্টি! ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দুই সন্তানকে নিয়ে আটকে পড়লেন মানসী! বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কেঁপে উঠলেন অভিনেত্রী!
অবশেষে, দেবীর আরাধনা শুরু হল। ব্রাহ্মণ-সন্তান স্বয়ং উত্তম কুমার নিজ হাতে ভোগ নৈবেদ্য অর্পণ করলেন। এই পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং তাঁর জীবনের এক অলৌকিক মুহূর্তের স্মৃতি হয়ে রইল। ভবানীপুরের ছাদে বসে সেই ছোট্ট মেয়ের দর্শন এবং পরবর্তীতে তড়িঘড়ি পূজার আয়োজন, মহানায়কের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকল। এভাবে এক ব্যক্তিগত অনুভূতি পুরো পরিবারের জন্য এক উৎসবের রূপ নিল, যা আজও উত্তম কুমারের ভক্তদের মনে একটি বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।

