৭০-এর দশকের দাপুটে অভিনেতা! উত্তম পরবর্তী যুগের সেরা নায়ক! শেষ জীবন কেটেছে চরম কষ্টে! আজও অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়কে ভুলতে পারেননি দর্শক!

৭০-৮০ দশকে যার দাপটে অন্য কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। যাকে উত্তম পরবর্তী যুগের সেরা নায়ক আখ্যা দেওয়া হয়েছিল সেই জনপ্রিয় কিংবদন্তি অভিনেতা আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল আমাদের মধ্যে নেই। জনপ্রিয় সেই অভিনেতা হলেন সন্তু মুখোপাধ্যায় (Santu Mukherjee)। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২০২০ সালে ৬৯ বছর বয়সে মারা যান অভিনেতা।
বর্তমান সময়ের দর্শক তাকে বিভিন্ন ধারাবাহিকে পার্শ্ব চরিত্রে দেখতেন ঠিকই তবে একটা সময় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে অসংখ্য নারীর নজর কেড়েছিলেন। পেটানো চেহারা, চওড়া বুক, আকর্ষণীয় উচ্চতা, ঠোঁটের উপরে পাতলা গোঁফ সবই ছিল নজরকাড়া। সেইসময় তার এই চেহারা দেখে গম্ভীর নায়ক হিসেবেই উঠে আসতো অভিনেতার নাম।
অভিনেতার বাবা নাট্য দলের সাথে যুক্ত ছিলেন, সেই কারণে অভিনয় ছিল অভিনেতার রক্তে। ১৯৭৫ সালে তপন সিনহা হাত ধরে ‘রাজা’ ছবিতে কাজের সুযোগ পান। এর পরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি অভিনেতাকে। পরপর ভাল ভাল ছবিতে একের পর এক সুযোগ আসতে থাকে তার কাছে।
শুধুমাত্র সিনেমা নয়, পাশাপাশি রেডিওতেও কাজ করেছেন। তাঁর পাঠ করা রেডিও নাটকগুলি হল, ‘অতুলপ্রসাদ’, ‘অসময়’, ‘হদয়ে প্রবাস’, ‘রবিবার’ প্রভৃতি। এই নাটকগুলো যারা শুনেছেন তারা ভুলতে পারেননি। নয়ের দশকের গোড়ায় কলকাতা দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘প্রথম কদম ফুল’। নায়ক নায়িকা ছিলেন সন্তু মুখোপাধ্যায় এবং মমতা শঙ্কর। অসম্ভব জনপ্রিয় হয় ধারাবাহিকটি। স্বামী-স্ত্রীর টানাপোড়েন গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল ধারাবাহিকটিতে। এছাড়াও জন্মভূমি ধারাবাহিকে তার চরিত্রটির কথা আলাদা ভাবে আর বলার কিছু নেই।
আরও পড়ুনঃ ‘২০০৭ এর পর আমি পুরোপুরি ঘরবন্দী, আজও বাবার পায়ের ছাপ…’- বাবার মৃ’ত্যুতে থমকে গিয়েছিল জীবন! নিরবে হারিয়ে গিয়েছিলেন চুমকি চৌধুরী! আজও সেই কথা মনে করে চোখে জল অভিনেত্রীর!
শেষবয়সে ইষ্টিকুটুম, অন্দরমহল, ময়ুরপঙ্খীর মতন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক সিরিয়ালে পরপর কাজ করে গেছেন অভিনেতা। দর্শকের ভালোবাসাও পেলেন শেষ অবধি। মোহর সিরিয়ালে কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অভিনেতার মেয়েও টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছেন কয়েক দশক ধরে। অনেকেই জানেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় হলেন অভিনেতার একমাত্র কন্যা। জীবনের শেষ কটা দিন বেশ কিছুদিন ধরেই ভুগছিলেন ফুসফুসের ক্যানসারে। ২০২০ সালের ১২ই মার্চ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান তিনি।

