‘ইন্দ্রপুরীর সেট থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল!’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও কাজ চাইতে গিয়ে অপমানিত মাস্টার রিন্টু!

অভিনয় জীবন সত্যি অনিশ্চিত। সে নতুন অভিনেতা অভিনেত্রী হোক বা পুরনো দিনের অভিনেতা অভিনেত্রী। কে কখন অভিনয় জগত থেকে ছিটকে যাবেন সে কথা সত্যি বলা মুশকিল। সেরকমই একজন জনপ্রিয় অসাধারণ অভিনেতা হলেন মাস্টার রিন্টু। এক নামেই যাকে সকল দর্শক চেনেন। কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বড় পর্দা একাধিক কাজ করেছেন একসময়। তবে বেশ কয়েক বছর হল অভিনয় জগত (Film Industry) থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল অভিনেতা।
পুরনো দিনের অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। যাদের বড় পর্দার পাশাপাশি ধারাবাহিক জগতে ধারাবাহিকভাবে দেখা যেত তাদের কে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই তালিকায় রয়েছে অনেকের নাম। কিন্তু পাশাপাশি এমনও অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী আছেন যারা বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয়। বড় বড় অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাথেও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন রিন্টু।
শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। নব্বই দশকের বেশিরভাগ ছবিতেই দেখা গিয়েছিল তাকে। মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতন বড় বড় সুপারস্টারদের সাথে কাজ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে আর বাংলা ছবিতে দেখা যায় না তাকে।
একসময় হাতে পর পর কাজ ছিল, আজ আর কেউ ডাকে না। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রায় হারিয়েই গিয়েছেন তিনি। একবার এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছিলেন, সেখানেই মনের কথা ভাগ করে নিয়েছেন। অভিনেতার আসল নাম সজল দে হলেও, মাস্টার রিন্টু নামেই পরিচিত ছিলেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছিল প্রাণ! পাননি যোগ্য সম্মান, আক্ষেপ নিয়েই পরলোক গমন করেছিলেন অভিনেত্রী রিতা কয়রাল!
অভিনেতা সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একসময় আমি কাজ না পেয়ে টিউশন পড়িয়েছি। আমার এক বন্ধু বাংলা পড়াতো, আর আমি ইংরাজি পড়তাম। আমার স্ত্রী আমার ছাত্রী ছিল। সেই সময় অনেক খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি। একবার জি বাংলার ইন্দ্রপুরীর সেট থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল। কাজ চাইতে গিয়ে অনেক অপমানিত হয়েছিল সেই পরিচালকের কাছে। একবার চা খেতে গিয়ে কাঁচের গ্লাস নেওয়ার সময় আমাকে নিতে দেওয়া হয়নি, বলা হয়েছিল কাঁচের গ্লাস আর্টিস্টদের জন্য।’ জীবনের এরকম নানান মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে অভিনেতার।

