‘আমি ভীষণই নির্লজ্জ’- মহাভারত থেকে মেয়েবেলা, তাকে ছাড়া সবই অসম্পূর্ণ! হঠাৎ নিজেকে নির্লজ্জ কেন বললেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়?

‘আমি ভীষণই নির্লজ্জ’—একথা বললেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু কেন এমন মন্তব্য করলেন তিনি? বাঙালি ঘরের মেয়ে রূপা, বাংলা বাণিজ্যিক ছবির দাপুটে মুখ, টেলিফিল্ম, সিরিয়াল, মেগা-সিরিয়াল সবখানেই ছাপ রেখেছেন। তবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সীমা ছাড়িয়ে একসময় বলিউডে ঝাঁপ দেন। সেই ঝাঁপেই তাঁর ভাগ্যে জোটে সুবর্ণ সুযোগ—বিআর চোপড়ার মহাভারতে দ্রৌপদীর চরিত্র। মুম্বইয়ে পাড়ি জমান তিনি, আর সেখান থেকেই শুরু অন্য এক যাত্রা।

হিন্দিভাষী নন, তবু রূপার সাবলীল হিন্দি দেখে দর্শকই নয়, শিল্পমহলও অবাক। ঋতুপর্ণ ঘোষ পর্যন্ত ঠাট্টা-তামাশা মিশিয়েই তাঁর টকশোতে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুই এত ভাল হিন্দি বলিস কী করে?” প্রশ্নটা অস্বস্তির ছিল, কিন্তু রূপার উত্তর আরও অস্বস্তি ছড়িয়েছিল। কারণ, তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন—একেবারেই হিন্দি জানতেন না।

রূপার দাবি, তাঁর ভেতরে এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে—যে কোনও ভাষার উচ্চারণ খুব তাড়াতাড়ি কপি করে নিতে পারেন। তবে সেটা করতে গিয়ে গণ্ডগোলও হয়েছে। স্ত্রীলিঙ্গ-পুলিঙ্গে গোলমাল আজও হয়। কিন্তু তবুও তিনি থেমে থাকেননি। মহাভারত চলাকালীন প্রতিদিন ডাবিং করতে হত। সেই নিয়মিত ঘষামাজাতেই তৈরি হয়েছিল তাঁর নিখুঁত উচ্চারণ। খাতা-কলম নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি, হিন্দি শেখার জন্য।

কিন্তু এখানেই চমক। রূপা বলেন, তাঁর হিন্দি বলার ভুল ধরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ তিনি দিতেন সবার আগে—সহশিল্পীদের, টেকনিশিয়ানদের, এমনকি স্পট বয়দেরও। শুনে কেউ কেউ ভুরু কুঁচকেছিলেন। কারণ, তারকাদের অহংকার যেখানে চরমে, সেখানে রূপার এই “শিখতে চাই” মনোভাব ছিল ব্যতিক্রমী। নিজেকে তিনি বর্ণনা করলেন, “ভীষণই নির্লজ্জ”—কারণ শেখার সময় তিনি একটুও লজ্জা পাননি।

আরও পড়ুনঃ ‘জানেন না যখন করছেন কেন, না জানলে ছেড়ে দিন…’- রাজনীতি নিয়ে ছ্যাবলামো! দেবকে এক হাত নিলেন অরিত্র দত্ত বণিক!

এই স্বীকারোক্তিই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিল্পমহলের কেউ বলছেন, এটাই রূপার সাফল্যের রহস্য—নির্লজ্জ সাহস। আবার কারও দাবি, এ আসলে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য চরম আত্মসমর্পণ। কিন্তু এটুকু অস্বীকারের উপায় নেই, সেই নির্লজ্জতাই রূপাকে বাংলা থেকে মুম্বই টেনে নিয়ে গিয়েছিল। আর তাঁর দ্রৌপদী আজও দর্শকের মনে অমলিন।

Back to top button