‘প্রযোজক ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার জামা খোলার চেষ্টা করেন…’ ধ’র্ষণের শিকার অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার! অভিনেত্রীর ভয়ংকর অভিজ্ঞতায় শিউরে উঠবেন আপনিও!

৯০ দশকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ইন্দ্রানী হালদার (Indrani Halder)। একের পর এক বাংলা ছবিতে অভিনয় করে সকলের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী। সকলের ভালোবাসায় পেয়েছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তবে বিপুল জনপ্রিয়তা এবং কর্মজীবনে ব্যাপক সাফল্য থাকার পরেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিল অনেক না পাওয়া। তবে অভিনেত্রীর জীবনে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা শুনে শিউরে উঠবেন আপনিও।
বর্তমান সময়ে তো ধর্ষণ আমাদের সমাজে দাঁড়িয়ে খুবই সাধারণ জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। আর সেই ভয়ংকর ঘটনার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার। হ্যাঁ, কোনো গল্প কথা নয় এটাই সত্যি। সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।
তবে কবে, কিভাবে অভিনেত্রীর জীবনে এই ঘটনা ঘটলো? এই ঘটনাটি অভিনেত্রীর সাথে ঘটেছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। সকলেই বর্তমানে কাস্টিং কাউচের সম্পর্কে কোন বেশি জানেন। সেই কাস্টিং কাউচের শিকার হতে হয়েছে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদারকে। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একসময় প্রথম সারিতেই ছিল ইন্দ্রানী হালদারের নাম। ৮০-৯০ দশকের শুরুতে দাপিয়ে কাজ করেছেন। শুধুমাত্র বড় পর্দায় নয়, পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও কাজ করেছেন অভিনেত্রী। তারপর কিভাবে অভিনেত্রীর সাথে এই ঘটনা ঘটলো?
মাত্র ২০ বছর বয়সেই বলিউডে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। মুম্বাইয়ের একটি সিনেমায়। প্রযোজক ছিলেন মুম্বাইয়েরই একজন। সেখানেই ঘটে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমায় অনেক নামিদামি শিল্পী ছিলেন। শুটিং হয়েছিল মুম্বাইয়ে। প্রথম লটে আমার মা গিয়েছিলেন সঙ্গে। দ্বিতীয় লটের শুটিং হবে বলে আমার টিকিট কাটা হলো সকালের ফ্লাইটে। কিন্তু বাবারটা কাটা হলো বিকালে। আমি বুঝে উঠতে পারিনি কেন? প্রথমবার আমাদের রাখা হয়েছিল কম দামি একটা হোটেলে। কিন্তু দ্বিতীয়বারের শুটিংয়ের জন্য ঠিক হলো ফাইভস্টার হোটেলে।’আমি পৌঁছালাম হোটেলে। সেদিন আমার কোনো কাজ নেই। তখন নতুন নতুন মোবাইল ফোন উঠেছে। হঠাৎ আমার রুমে ফোন এলো প্রডিউসার আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। আমি তো ঘাবড়ে গেলাম। তিনি কেন রুমে আসবেন! আমি তখনই আমার ডিরেক্টরকে ফোন করলাম। উনি আমাকে অভয় দিলেন, কিছু হবে না।’
আরও পড়ুনঃ ‘ছাগলের মতন গলা…রানু মণ্ডল এর থেকে ভালো গায়!’ প্রোমো প্রকাশ পেতেই সমালোচনার ঝড়! কটাক্ষের মুখে মধুমিতা সরকার!
‘প্রডিউসার রুমে এলেন, কথা বলতে বলতে একপর্যায় উনি আমার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি বাঁধা দিলে তিনি জোরপূর্বক আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে লাগলেন। এর পর উনার ফোনে একটি কল এলো। ফোনটি করেছিলেন উনার স্ত্রী। ফোনটি ধরতে ধরতে আমি বুদ্ধি করে দরজার লক খুলে দিলাম। তার স্ত্রীকে ভয়েস শোনানোর জন্য কাশতে শুরু করলাম। এভাবে একটি অন্ধকার পৃথিবী থেকে যেন বেঁচে ফিরলাম। পরে অন্যান্য জায়গাতে ওই প্রডিউসারের সঙ্গে দেখা হয়েছে; কিন্তু উনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে কথা বলতে পারেনি। আমি উনার নাম বলতে চাই না। আর বলাটা উচিতও হবে না। উনি এখন প্রয়াত। তবে ওই কালো অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কনফিডেন্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। কারণ উনি আমাকে বলেছিলেন আমি কখনো ভালো কাজ পাব না। পরে আমি আমার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছি মানুষ সব পারে।’

