”আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করেছিল, এখনকার অভিনেতা অভিনেত্রীরা সম্মান দিতে শেখেনি…’- অভিনয় জগতের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়া

অভিনয় জীবন সত্যি অনিশ্চিত। সে নতুন অভিনেতা অভিনেত্রী হোক বা পুরনো দিনের অভিনেতা অভিনেত্রী। কে কখন অভিনয় জগত থেকে ছিটকে যাবেন সে কথা সত্যি বলা মুশকিল। সেরকমই একজন কিংবদন্তি জনপ্রিয় অসাধারণ অভিনেত্রী হলেন শকুন্তলা বড়ুয়া (Shakuntala Barua)। এক নামেই যাকে সকল দর্শক চেনেন। কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। বড় পর্দা ছোটপর্দা সব জায়গাতেই কাজ করেছেন একসময়। ধারাবাহিক জগতে (Bengali Serial) নিত্যদিন দেখা যেত তাকে। তবে বেশ কয়েক বছর হল অভিনয় জগত (Film Industry) থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেখানেই নিজের আক্ষেপের নানান কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। বর্তমানে পুরনো দিনের অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। যাদের বড় পর্দার পাশাপাশি ধারাবাহিক জগতে ধারাবাহিকভাবে দেখা যেত তাদের কে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই তালিকায় রয়েছে অনেকের নাম। তার মধ্যে অন্যতম একজন শকুন্তলা বড়ুয়া। একসময় কত ধারাবাহিককে অভিনয় করেছেন।
অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন অনেক কথা। অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন আর মেগা করতে ভালো লাগে না। সত্যি বলতে এখন আর কেউ ডাকে না। শেষ সিরিয়াল করেছি ‘ক্ষীরের পুতুল’। তার পরে আর প্রস্তাব পাইনি। অনেকে বলেছিলেন কাজের কথা, কিন্তু কোনও ডাক আসেনি।’
অভিনেত্রী বলেন ‘এছাড়াও আমি খুব বেছে করি চরিত্রগুলি। আমার শুধু একটাই চাহিদা ছিল আলাদা মেকআপ রুমের। সমবয়সি কারও সঙ্গে রুম শেয়ার করতেও দ্বিধা নেই। কিন্তু ছোট ছোট ছেলেমেয়ের মাঝে বসে থাকতে পারব না। কারণ এখন আর কেউ সন্মান দিতে জানে না। একটা মেকআপ রুমে ঢুকছি দেখছি আমার থেকে বয়সে ছোট অভিনেতা পায়ের উপর পা তুলে বসে সিগারেট খাচ্ছে। এগুলো খুব খারাপ লাগে।’
আরও পড়ুনঃ মিঠি এবং কমলিনীর বিরুদ্ধে খু’নের অভিযোগ দায়ের অনন্যার! মা-মেয়েকে গ্রেফতার করতে হাজির পুলিশ!
এছাড়া অভিনেত্রী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘শিবপ্রসাদের সাথে আমার কাজের অভিজ্ঞতা খারাপ। এখন বললে মনে হবে নালিশ করছি, কিন্তু না আমার খুব খারাপ লেগেছিল। শিবপ্রসাদ তারা অলীক সুখ ছবির জন্য ডেকেছিল। আমি গেছিলাম, মেকআপ করে ফ্লোরে যাই। ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী এর ভূমিকায় অভিনয় করি। আমার সাথে ওই সিনে ছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং দেবশঙ্কর হালদার। ছোট একটি দৃশ্য ছিল। আমি বাড়ির গৃহবধূ এবং চা জল খাবার পরিবেশন করছি। এই দৃশ্য শুট হয়ে যাবার পর আমি মেকআপ রুমে যাই এবং আমাকে এসে বলা হয় দিদি আজকের মত হয়ে গেছে। আপনি আজ আসতে পারেন। তো আমিও মেকআপ তুলে বেরিয়ে পড়ি। কিন্তু তারপরে আমাকে আর একটা ফোন পর্যন্ত করা হয়নি, আমাকে পরবর্তী সিনের জন্য আর ডাকা হয়নি। এটা আমার খুব খারাপ লেগেছিল।’

