‘দরকার হলে আমি চিতায় উঠতে রাজি!’ চরিত্রের জন্য সবকিছু করতেই রাজি চিরসখা ধারাবাহিকের প্লুটো! বিতরকের মাঝে মুখ খুললেন অভিনেতা পার্থ বেরা!

বাংলা মেগা ধারাবাহিকগুলোর (Bengali Serial) মধ্যে দর্শকদের পছন্দের একটি ধারাবাহিক হলো স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha)। বেশ কিছুদিন হল টেলিভিশনের পর্দায় (Bengali Television) শুরু হয়েছে এই ধারাবাহিকটি। ধীরে ধীরে টিআরপি তালিকাতেও বেশ জাঁকিয়ে বসছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের (Leena Gangopadhyay) গল্প। একেবারে অন্যধারার গল্প নিয়ে শুরু হয়েছে এই ধারাবাহিকটি। আসলে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প মানেই ধারাবাহিকে একটু নতুনত্বের ছোঁয়া থাকবে। বাকি পাঁচটা ধারাবাহিকের চেয়ে অন্য গল্প ফুটিয়ে তোলা হবে। তেমনটাই হচ্ছে চিরসখার ক্ষেত্রে।

বর্তমানে ধারাবাহিকের গল্পের একটি ঘটনা নিয়ে বেশ তর্কবিতর্ক চলছে। বর্তমানে ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে ধারাবাহিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র প্লুটোর মৃত্যু হয়েছে। ধারাবাহিককে কমলিনীর মেয়ে মিঠির সঙ্গে প্লুটোর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু নানান ঘটনায় ধারাবাহিকে সেই চরিত্রটির মৃত্যু ঘটে। আর সেটা মেনে নিতে পারছে না একাংশ দর্শক। সোশ্যাল মিডিয়ার এই নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলছে। নেটিজেনরা অনেকেই লেখিকার উপর ক্ষোভ দেখাচ্ছে। অনেকেই এই চরিত্রটি ফিরিয়ে আনার কথা বলছে।

এই ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন অভিনেতা পার্থ বেরা। যাকে আমরা প্লুটো চরিত্রে দেখতে পেয়েছি ধারাবাহিকে। ধারাবাহিককে প্লুটো চরিত্রটির মৃত্যুর মাধ্যমে সমাজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন লেখিকা। সেটা অনেকেই না বুঝে আবেগ দিয়ে বিচার করছে। কিন্তু ধারাবাহিককে যে এই চরিত্রটির মৃত্যু দিয়ে কত বড় একটা সামাজিক বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করলেন লেখিকা সেটা অনেকেই বুঝতে পারেননি। এই নিয়ে সাক্ষাৎকারে পার্থ নিজের মতামত জানিয়েছেন।

পার্থ বেরা যাকে আমরা প্লুটো চরিত্রে দেখেছি তিনি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘এই প্লুটো চরিত্রটির মৃত্যুর মাধ্যমে লীনা দি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সকলের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। আসলে আমরা একটা সময় পর্যন্ত বাবা-মায়ের সব কথা মেনে চলি। কিন্তু বাবা মায়েদের বোঝা উচিত একটা সময় পর্যন্ত সবকিছু কন্ট্রোল করা যায় না, ছেলেমেয়েদের একটা সময় ছাড়তে হয়। তাদের সিদ্ধান্ত মতামতের গুরুত্ব দিতে হয়। অনেকেই আবার শবদেহ গাড়িতে আমায় দেখে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক এ বিষয়টা মেনে নিতে পারেননি।কিন্তু আমি প্রথম থেকে দিদির কাছে বলে রেখেছিলাম যদি চরিত্রটি আরো বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তোলার দরকার পড়ে তাহলে আমাকে চিতায় পর্যন্ত তুলতে পারেন।’

আরও পড়ুনঃ ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে বিচার বুদ্ধি লোপ পেল মিঠির! বাবা দাদার কথায় প্রভাবিত হয়ে দূরে ঠেলে দিল কমলিনীকে!

অনেকেই খুব অল্প দিনের মধ্যে প্লুটোর চরিত্রটা এত ভালোবেসে ফেলেছেন যে ধারাবাহিককে চরিত্রটি এভাবে শেষ হয়ে যাবে সেটা ভাবতে পারেননি কেউ। অনেক সময় ধারাবাহিক দেখতে দেখতে দর্শক ধারাবাহিকের চরিত্রগুলির সাথে এতটা জড়িয়ে যায় যে কোন চরিত্র বদল হয়ে গেলে বা সেই চরিত্রটি ধারাবাহিক থেকে বিদায় নিলে দর্শকের খুবই খারাপ লাগে। প্লুটো চরিত্রটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

Back to top button