“বাথরুমে কল চালিয়ে কাঁদতাম যাতে কেউ না শুনতে পায়.. চিৎকার করতাম”, নিজের অন্ধকার জীবনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা প্রথমবার বললেন মুকুটের অভিনেত্রী!!

আমরা যখন ধারাবাহিক দেখি, ধারাবাহিকের চরিত্রগুলো এতটাই মনের মধ্যে ঢুকে যায় যে, তারা আমাদের আপন হয়ে ওঠে। পরিবারের কেউ হয়ে ওঠে। আর সেই চেনা চরিত্রকে যখন আমরা দেখতে পায়না। তখন আমরা তাঁকে খুঁজতে থাকি। ভাবতে থাকি অভিনেত্রী তাহলে কোথায়? কী করছেন এসব জানতে চাই, কৌতূহলী হয়ে উঠি।
এই তেমনই একজন সুন্দরী অভিনেত্রী হলেন, অভিনেত্রী ইন্দ্রাক্ষী নাগ (Indrakshi Nag)। বর্তমান প্রজন্মের মানুষরা তাঁকে হয়ত চিনতে পারবেননা। তবে যারা ১০ বছর ধরে ধারাবাহিক দেখছেন তারা ঠিকই চিনবেন এই অভিনেত্রীকে। ২০১০ সালে জি বাংলার পর্দায় সম্প্রচারিত হত ‘সাত পাঁকে বাঁধা’ (Saat Paake Bandha) ধারাবাহিক। এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু মাঝে হঠাৎ করে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বড় পর্দা ছোট পর্দা কোথাও তার ছিন্ন মাত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল তার মুখ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে প্রাইভেট করে রাখার পিছনে কি কোন কষ্ট রয়েছে, কেন এতটা আড়ালে রেখেছেন অভিনেত্রী নিজেকে এমন প্রশ্নের তিনি উত্তর দেন “২০২১-২০২২ এই দুটো সালকে আমি আমার জীবনের ব্ল্যাক হোল বলে মনে করি। এই দুটো বছর আমার জীবনে একটা অন্ধকার সময়। ওই সময় আমি চারিদিকে হাতরাচ্ছিলাম আলোর আশায়, আর সেই সময় আমি নিজেকে পেয়েছি, নিজেকে ভালবাসতে চেয়েছি। আমি যখন নানা মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা শোনা শুরু করি।”
জীবনের খারাপ সময় গুলোতে কাউকে পাশে পাইনি তিনি কোন একজনও তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে তাকে সাহায্য করেনি। অভিনেত্রী বললেন “এমনও দিন গেছে আমার ৩৫ হাজার টাকা লাগবে কিন্তু আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে ১২০০ কি ১৩০০। আমি যে শুধুমাত্র এই ব্ল্যাক হোলের মধ্যে দিয়ে ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি তা নয় তার সাথে সাথে আমি কাজও করেছি সব কিছু সামলে সেই মুহূর্তে আমার ডাক আসে মা সারদায় আর তারপর তারাপীঠ এ। আমি জানি না কেউ বুঝতে পেরেছিল কিনা কিন্তু আমি তখনও সে সেজদার মধ্যে দিয়ে ভীষণভাবে যাচ্ছিলাম। আমি বাথরুমে কল চালিয়ে কাঁদতাম যাতে কেউ না শুনতে পায়। আমিও চিৎকার করতাম। যেরকম আমরা অভিনয় করি যে চিৎকার গুলো কেউ শুনতে পায় না সাউন্ডলেস চিৎকার।”

অভিনেত্রী তার বাবা-মায়ের সঙ্গে তার সল্টলেকের বাড়িতে থাকেন। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি বেলুড়মঠ জান তিনি বেলুড় মঠের দীক্ষিত এমনটাই তিনি জানান। তিনি বললেন, “এমনও হয়েছে আমি কাজের ফাঁকে সময় বের করে বেলুড় মঠ চলে গিয়েছি আর সেখানে গঙ্গার ঘাটে বসে হাওয়া হাওয়া করে কেঁদেছি সেখানে এক স্বামীজি আমাকে বলেন জীবনে যেটা হচ্ছে সেটাকে মেনে নাও এবং এগিয়ে যাও। আর আমিও সেই পথে অবলম্বন করেছি। আমি আগে নিজেকে একটুও ভালবাসতাম না কিন্তু এখন বাসি। আর বাসি বলেই ভালো থাকতে পারছি। মানুষের বলে উই ফল ইন লাভ, কিন্তু এই কথাটা ভুল ওই গ্রো ইন লাভ। ভালবাসতে পারলে আমরা জীবনে উঠতে পারি।” এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে অনেক ডিপ্রেশন কাটিয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করে আজ অভিনেত্রী পুনরায় ফিরেছেন তার কাজের মধ্যে। এদিন সাক্ষাৎকারের মধ্যে দিয়ে সবাইকে সেই মোটিভেশনই দিলেন ইন্দ্রাক্ষি নাগ।

