বিরোধী দলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালো রাজকুমারী! ফুলকিকে সরিয়ে ফেলতে ফের মরণ খেলায় মাতলো রুদ্র!

ফুলকি (Phulki) জি বাংলার (Zee Bangla) এমন একটি ধারাবাহিক যা বরাবর নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। প্রতি সপ্তাহেই ভালো ফলাফল করছে। এমনকি ধারাবাহিকটি (Bengali Serial) প্রতিদিনই একটু একটু করে দর্শকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। একটি এপিসোডও দর্শকদের নিরাশ করে না এই ধারাবাহিকের। তাইতো বাংলার মেগা গুলির মধ্যে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক।
ধারাবাহিকের শেষ কয়েকটি পর্বে দেখানো হয়, রাখি উৎসবে সকলকে শরবত বিতরণ করতে থাকে অভিরূপ। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ফুলকি এসে উপস্থিত হয়। ফুলকি পরীক্ষা করে দেখতে চায় শরবতে কিছু মেশানো আছে কিনা। তাই রোহিত ল্যাব থেকে পরীক্ষক ডাকার ব্যবস্থা করে। কিন্তু ফুলকি ছদ্মবেশী অ অভিরূপকে সরাসরি আক্রমণ না করেই বলে সে শরবত বানিয়েছে তাই সে নিশ্চয়ই নিশ্চিন্তে এই শরবত খেতে পারবে। তাই সে যেন সকল সামনে ওই শরবত খেয়ে দেখায়। তাহলে ফুলকি একটু নিশ্চিন্ত হতে পারবে। আর ফুলকি যে সন্দেহ করছে সে আশাই করেনি রুদ্র।

সবাই ফুলকিকে অনেক বার করে বারণ করছিল এটা না করতে। কিন্তু ফুলকি দেখতে চাইছিল যদি শরবতে কিছু মেশানো থাকে তাহলে সেটা অভিরূপ খায় কিনা। কিন্তু ফুলকির চাল ধরতে পেরে কিছুটা রিস্ক নিয়েই সেই শরবত খেয়ে ফেলে ছদ্মবেশী রুদ্র। আর তার কিছুক্ষণ পরেই তার শরীর খারাপ হতে শুরু করে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিরূপকে। এদিকে ফুলকির এই কাজে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় লাবণ্য। আসলে রাবণ্য ধীরে ধীরে অভিরূপের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে তার কারণে ফুলকির সিদ্ধান্ত একেবারেই সমর্থন করতে পারছে না।
তারপর সকলে মিলেই অভিরূপকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। হাসপাতালে সকলেই ফুলকির কাছে জানতে চাই ফুলকির এমন সন্দেহ করার কারণ কি, হঠাৎ কি মনে হয়েছিল। ফুলকি জানাই সে এখনই সবটা জানাতে পারবে না। তবে অভিরূপ যে এভাবে শরবত খেয়ে নেবে সেটা ফুলকি বুঝতে পারেনি। লাবণ্য যে ফুলকির এই কাজে মোটেই খুশি হয়নি সেটা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু ফুলকির সন্দেহটা যে কোথায় হচ্ছে সেটা বোঝাতে পারছে না কাউকে। ফুলকি রোহিতকে বলে বর্তমানে যে শত্রু তাদের ক্ষতি করছে সেটা অনেকটা রুদ্রর স্টাইল। রুদ্র এভাবেই আড়াল থেকে সবসময় ক্ষতি করত তাদের। আর যে শত্রু এখন তাদের ক্ষতি করছে সেটাও আড়াল থেকেই।
আরও পড়ুনঃ ‘ওর চেহারাটা…আমার সব থেকে খারাপ লাগার জায়গা, আমি চেয়েও কিছু করতে পারি না’ – স্ত্রীকে নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়!
আর ফুলকি সন্দেহ করছে রুদ্র কোনভাবে ফিরে এসেছে কি না। ফুলকির কথা শুনে রোহিত ভাবে সে এখন ভুলভাল বলছে। কিন্তু ফুলকি তার মনের সন্দেহটা উড়িয়ে দিতে পারছে না। যেভাবে রুদ্র রাজমহলে লুকিয়ে ছিল এবং কারাগারে নকল রুদ্র সেজে একজনকে বসিয়ে রেখেছিল তারপরে ছোট রাজার ছদ্মবেশে যেভাবে রাজমহলে লুকিয়ে ছিল তাতে ফুলকি রুদ্রকে এতোটুকু বিশ্বাস করে না। রোহিত এবারে ফুলকির কথাটা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিতে পারে না। তাই অংশুর সাথে থানায় যায় দুজনে মিলে। অংশু রুদ্রর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, ডেট সার্টিফিকেট সব কিছু ফুলকিকে দেখায়। এমনকি যে জেলার ছিল যে ডাক্তার পোস্টমর্টেম করেছে তাকেও নিয়ে আসে।
সবকিছু দেখে দুজনে মিলে অভিরূপকে দেখতে হাসপাতালে যায়। ফুলকিকে দেখে আবার নাটক শুরু করে রুদ্র। যাতে সবাই তার উপরে দয়া করে। সেই ভাবেই কথা বলতে থাকে ফুলকি তাকে সন্দেহ করছে সে রাজমহল থেকে চলে যাবে এই সমস্ত কথা বলতে থাকে। লাবণ্য এ সমস্ত কথা শুনে ভেঙে পড়ে। আর বলে ফুলকি ছেলেমানুষ তাই জন্য বলে ফেলেছে এমন কথা। ফুলকিও ভাবে অভিরূপকে সন্দেহ তালিকা থেকে সে বাদ দিতে পারছে না, তাই তাকে সবসময় চোখে চোখে রাখতে হবে। তাই এবারের মতো অভিরূপের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। রুদ্র ভাবে এ যাত্রায় সে বেঁচে গেছে। এদিকে স্বাধীনতা দিবসের দিন ছোট রাণীর দলের লোক পতাকা উত্তোলন করতে আসলে ফুলকি তাতে বাধা দেয়। জানিয়ে দেয় যেদিন তারা মানুষের ভালো করতে পারবে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবে সেদিন যেন পতাকা উত্তোলন করে তার আগে নয়। আর এভাবে ফুলকি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছে। দেখা যাক কি হয় আগামী পর্বে।

