‘পাঁচ মিনিট অন্তর বাথরুমে গিয়ে কেঁদে এসেছি!’ নয় বছর পর প্রাক্তনের কাছাকাছি এসে দুর্বল হয়ে পড়লেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী?

দীর্ঘ ৯ বছর পর আবার একসাথে একই মঞ্চে দেব-শুভশ্রী (Dev-Subhashree)। টলিউডের (Tollywood) এক সময়কার হিট জুটি মাঝের দশ দশটা বছর হারিয়ে গিয়েছিল দর্শকদের মাঝখান থেকে। তাদের ব্যক্তিগত জীবনের ঝামেলার প্রভাব পড়েছিল কর্মক্ষেত্র। একসাথে চ্যালেঞ্জ, রোমিও, পরান যায় জ্বলিয়া রে-এর মতো একাধিক ছবিতে কাজ করতে করতে একে অপরের প্রেমে পড়ে দেব (Dev Adhikari) এবং শুভশ্রী (Subhashree Ganguly)। যদিও কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং তার পর থেকে দীর্ঘ ৯ বছর একে অপরের মুখ দেখে দেখেননি দেব শুভশ্রী।

দুজনে শেষবার ধূমকেতু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সেই ছবিও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মুক্তি পাচ্ছিল না। অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছে ধূমকেতু। সেই জন্যই গত সোমবার নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠানে একসাথে হাজির হয়েছিলেন দেব এবং শুভশ্রী। দুজনকে একসঙ্গে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন বাঙালি। বিশেষ করে তাদের ঘিরে যাদের ছোটবেলা কেটেছে।

এমনকি এত বছর পর দেবের এত কাছাকাছি এসে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন শুভশ্রী। দীর্ঘ ৯ বছর তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। একে অপরকে দেখলে এমন ভাবে এড়িয়ে যেতেন যা দেখে খারাপ লাগত সকলেরই। মাঝে একবার একটি অ্যাওয়ার্ড শোতে দুজন মুখোমুখি হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেখানে কোন কথা হয়নি তাদের। এত বছর পর দুজন এত কাছাকাছি এসে দর্শকের পাশাপাশি শুভশ্রীও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।

অভিনেত্রী জানান, ‘পাঁচ মিনিট অন্তর বাথরুমে গিয়ে কেঁদে এসেছি।’ তবে কি ফের আরো একবার দেবের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লেন? এত বছর পর প্রাক্তনের এত কাছাকাছি এসে কি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না? তার চোখে জল এলো শুধুই কি পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গিয়েছে বলে? নাকি শুভশ্রীর মনে এখন উথালপাথাল হচ্ছে দেবকে নিয়ে।

আসলে এই ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটেনি। বেশ কয়েক বছর আগে একটি রিয়েলিটি শোতে এসে শুভশ্রী নিজের মনের কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় দেবের সাথে বিচ্ছেদ তাকে একেবারেই ভেঙে দিয়েছিল মন থেকে। যার জন্য দীর্ঘ চার বছর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন শুভশ্রী নিজেকে। সেসময় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী।

দশ বছর আগে জি বাংলার একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোতে এসে শুভশ্রী বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবতী যে অনেক কম বয়সে আমি জীবনের খারাপ দিকটা দেখেছি। আমার জীবনে একটা সময় এসেছিল যখন কাজ থেকে আমার ফোকাসটা একদম সরে গিয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তটাও আমি নিয়েছিলাম। সেই সময় আমার কাজটা একদমই ছিল না। পরাণ যায় জ্বলিয়া রে… পর আমি কাজটা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু যেটার জন্য এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম সেটাই যখন থাকল না জীবনে তখন আমি ভীষণ ভাবে বুঝতে পারলাম যে জীবনে সব কিছুই অনিশ্চিত। কিন্তু আমি এই সবের জন্য কখন অনুশোচনা করি না। তবে সেই সময় আমি আমার ৪ বছর নষ্ট করেছিলাম। আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সব কথা ভাগ করে নিতে পারতাম না। আমি আমার খুশিটাই বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। কিন্তু ওঁরা ঠিকই বুঝতে পারত আমি কষ্টে আছি। সেটা বুঝে হয়তো বাবা-মা এসেছেন। আমিও ওঁদের সঙ্গে হেসে হেসে গল্প করছি। পাঁচ মিনিট অন্তর বাথরুমে গিয়ে কেঁদে এসেছি।’

আরও পড়ুনঃ পায়েস বি’ষ মিশাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পরল ছদ্মবেশী রুদ্র! নিজের চিরশত্রুকে ঠিক চিনে নিল ফুলকি!

তিনি আরও বলেন, ‘যে সময় আমি শূন্য হয়ে গিয়েছিলাম, সেই সময় আমি ওই মানুষ টিকে বলেছিলাম যে, আমার জীবনে হারানোর কিছু নেই। কিন্তু আমি যদি কিছু পাই সেটা আমার পাওয়া হবে। ভগবানের আশীর্বাদে তারপর থেকেই জীবনে সাফল্য আসতে শুরু করে। আমি কোনও অতিরিক্ত কিছু করি না। নিজের প্রচার করতে পারি না। ভগবানের আশীর্বাদ আর বাবা মায়ের আশীর্বাদ আছে।’

Back to top button