‘আমি না হয় অবুঝ, উনি আমার নাম্বারটা পাবলিক করে কোন ম্যাচিউরিটিটা দেখালেন? উনি আমার পরিবারকেও অসম্মান করেছেন…’- জিতুর কথায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দিতিপ্রিয়া!

জল গড়িয়েছে অনেকদূর। জিতু দিতিপ্রিয়ার ঝামেলা এখন আইনি পথে হাঁটতে চলেছে। বহুদিন ধরেই দুজনের মধ্যে কথা বলা বন্ধ, তাদের ঘিরে বিতর্ক একেবারে তুঙ্গে। বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে জিতু-দিতিপ্রিয়ার (Jeetu Kamal-Ditipriya Roy) হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে। কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিকে আর্য অপর্ণার একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি পোস্ট করেছিলেন জিতু। কিন্তু তার মধ্যে থেকে কোন একটি বিশেষ পোস্ট দিতিপ্রিয়ার পছন্দ হয়নি। সেই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

এই ঘটনার আগে পর্যন্ত নাকি তারা কথা বলতেন না একে অপরের সাথে। সেটে দেখা হলে যতটুকু কথা হত তাও দিতিপ্রিয়ার মায়ের ভয়ে জিতু নাকি কখনোই দিতিপ্রিয়ার সাথে কথা বলেনি। শুধুমাত্র শর্ট দিয়ে চলে যেতেন। আর যেহেতু বেশিরভাগ সময় একা থাকতে পছন্দ করতেন জিতু, তাই অভিনেত্রীর সাথে খুব একটা বেশি কথা ধারাবাহিকের সেটে হয়নি। কিছুদিন আগে থেকেই জিতু দিতিপ্রিয়ার whatsapp-এর মাধ্যমে কথা হয়। দিতিপ্রিয়া অভিযোগ করেন জিতু মধ্যরাতে তাঁরে অশ্লীল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করেছে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর পোস্ট করেছে দিতিপ্রিয়া।

দিতিপ্রিয়া লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ‘Ignorance is bliss।’ প্রথমত, একটি ছবি পোস্ট করা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছিল। প্রোডাকশন টিম সবসময়েই আমাদের কিছু ছবি দিয়ে থাকে দু’জনকেই সমাজমাধ্যমে কিছু পোস্টের জন্য। আমার সহ-অভিনেতা সেই সব ছবিই পোস্ট করেন। যে ছবিগুলোর মধ্যে একটি আমার ব্যক্তিগত ভাবে একেবারেই ভালো লাগে না। ছবিটা তিনি ডিলিট করেন। তার পর বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বার বার বলেছেন, আমার পোস্ট করা ছবিতে নাকি অনেক খারাপ ও নোংরা কমেন্ট এসেছে। তাই আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমি তো তার সঙ্গে কথাই বলিনি!’

তারপরেই জিতু বেশকিছু স্ক্রিনশট এর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। যেখানে জিতু এবং দিতিপ্রিয়ার কথোপকথন দেখা যাচ্ছে এবং সেখানেই দিতিপ্রিয়ার নাম্বারটা হাইড না করেই পোস্ট করে ফেলেন জিতু। যা নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়। তবে ওই চ্যাটেই দেখা যাচ্ছিল বেশকিছু জায়গায় আপত্তিজনক মেসেজ করেছেন জিতু।

একটি চ্যাটে দেখা যায় জিতু দিতিপ্রিয়া কে জিজ্ঞাসা করছে, ওই ইভেন্টে যাচ্ছো। আমি বলি, না, আমার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। উল্টোদিকে জিতে উত্তর দেন চান, কেন তুমি কি প্রেগন্যান্ট।,… একটি AI-তে বানানো ছবি যেখানে দেখা যায় দুজনে চুম্বন করছেন—ওই ছবি অভিনেত্রীকে মাঝরাতে পাঠিয়ে লেখেন, “বেশ হয়েছে, এটা বয়ফ্রেন্ডকে পাঠাও”। সাথে লেখেন, “এই রাতেই ব্রেকআপ হয়ে যাবে ”। এরপর আরেকদিন অভিনেত্রীকে মেসেজ করে বলেন, “আমার তোমার সঙ্গে কথা আছে, দেখো যেন তোমার মা না জানতে পারেন । কাকিমাকে আমি ভয় পাই।”

আরও পড়ুনঃ ‘বুকের বাঁদিকটা চিনচিন করছে তো? আজ তুই আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে…’- ধর্মের কল বাতাসে নড়ে! রাজ চক্রবর্তীর মনের আগুন ঘি ঢাললেন প্রাক্তন স্ত্রী শতাব্দী মিত্র!

কিন্তু সেই স্ক্রিনশটগুলিতে দিতিপ্রিয়ার নাম্বার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল যার ফলে ওইখান থেকে অনেক উটকো লোকজন নাম্বার নিয়ে দিতিপ্রিয়াকে বিরক্ত করে, তাকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। সেই পরিস্থিতির পর সাক্ষাৎকারে দিতিপ্রিয়া জানান, ‘একজন সহ-অভিনেতা আমার সঙ্গে সেটে কথা বলেন না, আমার মাকে ভয় পান তাই। আমি যাকে পছন্দ করব না, তাকে মেসেজই বা কেন করব। আমাকে সবসময় ইম্যাচিউর বলা হয়। তাহলে ইয়ার্কি মেরে ১৫ থেকে ১৬ বছরের ছোট কাউকে কি কখনও এ ভাবে প্রেগন্যান্ট কি না জিজ্ঞেস করা যায়? এই সত্যিগুলো বললে যদি কারও মনে হয় আমি ইয়ার্কি নিতে পারি না, তা হলে সত্যিই পারি না। আর উনি স্ক্রিনশটগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার নাম্বার সমেত পোস্ট করে কি খুব ম্যাচিউরিটি দেখিয়েছেন?’ দিতিপ্রিয়া আগামী দিনে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বলেই জানিয়েছেন।

Back to top button