ধোপে টিকলো না কোন প্ল্যান! যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছোট রাণী! জিতে গেল ফুলকি!

জমজমাট হয়ে উঠেছে জি বাংলার (Zee Bangla) ফুলকি (Phulki) ধারাবাহিক। প্রতিটি পর্বেই এখন থাকছে টানটান উত্তেজনা পর্ব। একটি পর্বও মিস করার উপায় নেই। ধারাবাহিকের (Bengali Serial) প্রতিদিনের পর্বে নানান রকম টুইস্ট এবং জমজমাট এপিসোডের জন্যই ধারাবাহিকটির এত জনপ্রিয়তা। টিআরপি তালিকাতেওর তাই ভালো ফলাফল করে প্রতি সপ্তাহে। চলুন তাহলে জেনে নাও যাক ধারাবাহিকের আগামী পর্বে কি হতে চলেছে।

ধারাবাহিকের শেষ কয়েকটি পর্বে দেখানো হয়, বাবার অ্যাক্সিডেন্ট-এর খবর পেয়ে ফুলকি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে যায়। রোহিত আগে থেকেই সেখানে ছিল। ডাক্তার চিকিৎসা করে রোহিতকে জানায় এক্সিডেন্ট এর ফলে বড় রাজার মাথায় বিরাট বড় চোট লেগেছে। তাই যতক্ষণ না জ্ঞান আসছে ততক্ষণ কিছুই বলা যাচ্ছে না। এমনও হতে পারে বড় রাজা কোমায় চলে গেলেন। রোহিত ডাক্তারকে জানায় বড় রাজার এর আগেও অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল যার ফলেও তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে গিয়েছিল। তারপরই ফুলকি হাসপাতালে পৌঁছে বাবাকে দেখে খুব কান্নাকাটি করতে থাকে। বাবার স্মৃতিশক্তি না ফিরলে ছোট রাণীকে শাস্তি দিতে পারবে না ফুলকি। তাই জন্য খুব কান্নাকাটি করতে থাকে সে।

Abhishek Bose

তখনই ফুলকির চোখের জলের স্পর্শ পেয়ে বড় রাজার ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরতে থাকে। আর স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া সেই ২৪ বছর আগের অ্যাক্সিডেন্ট-এর দৃশ্য তার মনে পড়ে। কিভাবে একটা লরি তার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল সেই সব ঘটনা মনে পড়তে থাকে তার। ওইদিকে অংশু সন্দেহ করে রোহিত এবং বড় রাজার অ্যাক্সিডেন্ট-এর পেছনে ছোট রাণী যুক্ত আছে। অ্যাক্সিডেন্টটা ইচ্ছে করে ঘটনা হয়েছে। তাই অংশু তদন্ত করতে থাকে। পরের দিন কোর্টে পৌঁছায় ফুলকি এবং রোহিত। ছোট রাজার সাথে আসবে বড় রাজা। ফুলকির খুব চিন্তা হতে থাকে বাবাকে নিয়ে। আদৌ তিনি কোন সাক্ষী দিতে পারবেন কিনা, ছোট রাণীর উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারবে কিনা সেই নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।

এরপরেই ছোট রাজার সাথে কোর্টে আসে বড় রাজা। বড় রাজাকে দেখে তো অবাক হয়ে যায় ছোট রাণী। ছোট রাণী ভেবেছিল অ্যাক্সিডেন্ট-এর মাধ্যমে বড় রাজাকে শেষ করে দেওয়া যাবে। কিন্তু উল্টে ওই অ্যাক্সিডেন্ট-এর ফলে বড় রাজার পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে। আস্তে আস্তে সব স্মৃতি ফিরে আসছে বড় রাজার। এরপর কোর্টের মামলা শুরু হয়। ধানু প্রথমেই বড় রাজাকে কাঠগড়ায় ডেকে নেয়। কোর্টে দাঁড়িয়ে বড় রাজা জানায় ছোট রাণী আজ থেকে ২৪ বছর আগে কিভাবে তার সন্তানকে সরিয়ে দিয়েছিল। নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়েন ছোট রাণী। কিন্তু এই ঘটনাকে মিথ্যে বলে প্রমাণ করতে থাকে ছোট রাণীর উকিল। বড় রাজাকে সমস্ত কথা শিখিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। ২৪ বছর আগের ঘটনা কি করে কারোর মনে থাকতে পারে, সেই প্রশ্নই ছুঁড়ে দেয় ধানুর দিকে।

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা তথা পরিচালক নীলাদ্রি লাহিড়ী! কান্নায় ভেঙে পড়লেন কন্যা সম্পূর্ণা লাহিড়ী!

এই অভিযোগের দাবিতে ধানুকে প্রমাণ দিতে বলে বিচারক। ধানু দু মিনিট সময় চেয়ে নেয় আদালতের কাছে। এরপর ধানু ফুলকির কাছে গিয়ে জানতে চায় এবারে কি করবে সে। অ্যাডভোকেট চ্যাটার্জি বিপাকে ফেলে দিয়েছে এই প্রশ্ন করে। তখন ফুলকি বলে সে বিচারকে কিছু বলতে চায়। তাকে যেন কাঠগড়ায় ডাকা হয়। তারপর ফুলকি বিচারককে বলতে থাকে ২৪ বছর আগে বড় রাজার সন্তানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার বিশ্বস্ত কর্মচারীকে মেরে ফেলা হয়েছিল। সেই ঘটনা এত সহজে কি ভুলে যাওয়ার কথা? কোন বিশেষ দিনের ঘটনা এত সহজে আমরা ভুলি না। বিচারক ফুলকির সমস্ত কথা শোনার পর আর সবদিক বিবেচনা করে ছোট রাণীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দন্ডিত করে। অবশেষে দীর্ঘ লড়াই জেতে ফুলকি, এবারে স্টেটের দায়িত্ব তার কাঁধে। দেখার অপেক্ষায় কি হয় আগামী পর্বে।

Back to top button