‘বড়পর্দা আমায় ভুলে গেছে, ছোটপর্দাও মুখ ফিরিয়েছে’, ‘জীবনের শেষ দিনটাও অভিনয় করতে চেয়েছিলাম’— আক্ষেপে আজও ভাঙে দেবিকা মিত্রর মন! উত্তম কুমারের নায়িকা, কিন্তু কেউ ডাকে না আর!

টলিউডে (Tollywood) এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘দেবিকা মিত্র’ (Debika Mitra)। আজও যাঁর নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় ‘শত্রু’, ‘ব্যাতিক্রমী’ কিংবা ‘মাতৃভূমি’র মতো সিনেমার দৃশ্য। অভিনয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, পরিচালক অরবিন্দ মুখার্জির ‘অগ্নিশ্বর’ ছবির হাত ধরে। কেরিয়ারের প্রথম দিকেই মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে পর্দা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ, কোনও নবাগত অভিনেত্রীর কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী-ই বা হতে পারে! এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের এক অনন্য মুখ হয়ে ওঠেন।

দেবিকা মিত্র সবসময়ই ছিলেন এক পরিপক্ক শিল্পী। তাঁর প্রতিটি চরিত্রে ছিল অভিজ্ঞতার ছোঁয়া, আবেগের গভীরতা। বাঙালি পরিচালকদের মধ্যে হরনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ। হরনাথবাবুর সিনেমা মানেই দেবিকা মিত্রকে ফোন করে কোনও না কোনও চরিত্রে যুক্ত করার চেষ্টা, এমনটাই দাবি করেন তিনি। তবে শুধু বড়পর্দার অভিনেত্রী নন, দেবিকা আসলে থিয়েটারের মেয়ে। মঞ্চের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে অনেক হিট ছবির সুযোগ থেকেও দূরে সরিয়ে রেখেছিল!

আজও সেসব না করা ছবির জন্য একরাশ আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “থিয়েটার আমার রক্তে মিশে গেছে। একটা সময় এই নাটকের জন্যই আমি অনেক নামি দামী পরিচালকের ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। কিছু ছবি পরবর্তীকালে এতো হিট হয়, যে ফিরিয়ে দেওয়ার আক্ষেপটা আজও রেয়ে গেছে।” দেবিকার অভিনয়জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো টেলিভিশন। ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’, ‘নীলকন্ঠ’-র মতো ধারাবাহিকে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল।

ছোটপর্দাতেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে, সময় ও মাধ্যম বদলালেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা কখনও টলেনি। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা—প্রত্যেক জায়গায় তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। কিন্তু সময় সবসময় সমান যায় না। বর্তমানে অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন দেবিকা মিত্র। না, ইচ্ছে করে নয়—বরং না পাওয়ার বেদনায়। বড়পর্দা তো বহুদিন আগেই তাঁর দুয়ার বন্ধ করেছে, এখন ছোটপর্দাতেও কাজের টানাপড়েন।

আরও পড়ুনঃ ২ লক্ষ টাকার বিনিময় মুখে কুলুপ আঁটলো সোহিনী! এত টাকা কোথায় পেল চন্দ্র? আদালতে গিয়ে ফাঁস করলো কমলিনী!

অভিনেত্রীর আক্ষেপ, “আমি তো এখনও অভিনয় করতে চাই, কিন্তু কেউ ডাকেই না!” বসে থাকার এই যন্ত্রণার মধ্যেই কখনও কখনও অনিশ্চয়তার অন্ধকার তাঁকে গ্রাস করে। তবে তাঁর শেষ ইচ্ছেটুকুও রয়ে গেছে অপূর্ণ। সব ধরনের চরিত্র করেছেন তিনি, তবে এখনও মনে আফসোস রয়ে গেছে খলনায়িকা কিংবা কৌতুক চরিত্রে কাজ না করতে পারার। “ইচ্ছা ছিল, জীবনের শেষ দিনটাও যেন অভিনয় করতে করেই কাটে,”—এই কথার মধ্যেই যেন মিশে আছে এক অভিনেত্রীর অতৃপ্ত আত্মার কান্না।

Back to top button