‘আমার পায়ের গোড়ালি ঝুলছে, চারটে হাড় বেরিয়ে এসেছে’— এই অবস্থাতেও অভিনয় থামাতে নারাজ ঋতা দত্ত চক্রবর্তী! এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনয়! কি করে হলো অভিনেত্রীর এমন দুর্ঘটনা?

অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল তৃপ্তি মিত্রের মতো প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার মধ্য দিয়ে, কিন্তু কখনোই ভাবেননি অভিনয়কে পেশা করবেন। সময় গড়িয়েছে, আর অভিনয় হয়ে উঠেছে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি জীবনের কঠিনতম দিনগুলোতেও অভিনয় ছাড়েননি অভিনেত্রী ‘ঋতা দত্ত চক্রবর্তী’ (Rita Dutta Chakraborty) । নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উজাড় করে দিয়েছেন মনের অনেকটা অংশ, যা ছিল এতদিন শুধুই তাঁর একান্ত নিজের।
ঋতার কথায়, “আমার বা পায়ের গোড়ালি ভেঙে গিয়ে পুরো ঝুলে পড়েছিল, চার পাশ থেকে চারটে হাড় বেরিয়ে এসেছিল। ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনায় কালার্স হিন্দির ‘বালিকা বধূ’-র আদলে তৈরি ধারাবাহিক ‘গৌরিদান’-এ আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করছিলাম—একজন ঠাকুমার। দুর্ঘটনার পরপরই ধারাবাহিকের প্রযোজকদের সব জানাই। ওনারা বলেছিলেন, ‘তোমাকেই করতে হবে চরিত্রটা, অন্য কেউকে ভাবতেই পারছি না।’ কিন্তু এদিকে ডাক্তার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন অপারেশন না করলেই নয়।”
অভিনেত্রীর সেই সময়কার শারীরিক অবস্থা ছিল ভয়ঙ্কর। পায়ে দশটি স্ক্রু এবং তিনটি ধাতব পাত বসাতে হয়েছিল। ডাক্তার জানিয়েছিলেন, পুরোপুরি শুয়ে থাকতে হবে, যাতে পা সোজা থাকে এবং যতক্ষণ না শরীর স্ক্রু ও পাতকে গ্রহণ করছে, কোনওরকম নড়াচড়া করা চলবে না। ঋতা বলেন, “ডাক্তার বলেছিলেন, ‘পা ঠিক হবে কিনা জানি না। যদি হয়, সেটা ঈশ্বরের দয়া। না হলে তোমার আর হাঁটা হবে না।’ আমি চুপচাপ শুনেছিলাম, কিন্তু মনে মনে জানতাম আমি ফিরবো, আমি পারবো।”
অপারেশনের মাত্র ছয় দিন পরেই আবার ক্যামেরার সামনে ফিরে যান ঋতা। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে এম্বুলেন্স এসে তাঁকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেত শুটিং সেটে। সেখানে একটি বিশেষ হুইলচেয়ার রাখা হয়েছিল, যাতে তিনি পা সোজা রেখে অভিনয় করতে পারেন। “আমি চরিত্রটার জন্য হুইলচেয়ার চালানো শিখে নিই। ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। ওরাই আমাকে সেই সাহসটা দিয়েছিল। ওরা না থাকলে হয়তো আমার পক্ষেও এটা সম্ভব হত না,” বললেন ঋতা।
আরও পড়ুনঃ কমোলিনীকে হারাতে নোংরামির শেষ পর্যায়ে চন্দ্র! বোনের স্বামীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘোর ষ’ড়যন্ত্র! বৌঠানকে কালিমা মুক্ত করার ব্যবস্থা করে ফেলল স্বতন্ত্র!
তিনি আরও বলেন, “তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু এখন মনে হয়, যদি সেই সময় আমি শুধু বিছানায় পড়ে থাকতাম, তাহলে জীবন কীভাবে লড়াই করে বাঁচতে শেখায়, সেটা বুঝতাম না। অভিনয় শুধু আমার পেশা নয়, এটা আমার আত্মার রসদ। তাই যত কষ্টই হোক, আমি ক্যামেরার সামনে ফিরেছিলাম, আর আজও আছি—সেই একই ভালবাসা আর দায়বদ্ধতা নিয়ে।” আজ পর্যন্ত এই কথা কাউকে জানাননি অভিনেত্রী, ঠিক এতটাই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন নিজেকে।

