“রুক্মিণীর ‘বিনোদিনী’ দেখতেও চাই না!”— রুক্মিণীর ছবিকে পাত্তাই দিলেন না সুজয় প্রসাদ! অভিনেত্রীর তারকা তকমায় বি’ষাক্ত খোঁচা! রুক্মিণীকে নিয়ে এত রাগ কেন?

বাংলা থিয়েটার জগতে ‘সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়’ (Sujoy Prasad Chatterjee) মানেই এক উজ্জ্বল নাম। কঠিন প্রশ্ন করতে ও স্পষ্ট কথা বলতে তিনি পিছপা হন না। তাই যখন তিনি প্রকাশ্যে জানালেন যে ‘রুক্মিণী মৈত্র’ (Rukmini Maitra) অভিনীত ‘বিনোদিনী’ (Binodini) তিনি ইচ্ছে করেই দেখেননি, তখন সেটা নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় বলে উড়িয়ে দেওয়া গেল না। সিনেমাটি যখন বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখেছে, তখন একজন সংস্কৃতি-কর্মীর এমন ‘উপেক্ষা’ অনেকের কাছে অবজ্ঞাসূচক ঠেকেছে।

সুজয় প্রসাদ যতটা থিয়েটার প্রেমিক, ততটাই তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতির কড়া সমালোচক। তার মতে, বাংলা সিনেমা কী চলবে, কী চলবে না—তা ঠিক করে দেন ‘ভিতরের লোকেরা’। দর্শক সেখানে যেন শুধুই একনজরে দেখার পাত্র। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সফলতার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে আসল প্রতিভা। প্রশ্ন হলো, বিনোদিনী বেছে বেছে না দেখার পেছনেও কি সেই গোষ্ঠী রাজনীতির বিরুদ্ধে একরকম ‘প্রতিবাদ’? না কি রুক্মিণীর অভিনয় ক্ষমতাকে স্বীকার করতে নারাজ?

সুজয় প্রসাদের মতে, ‘টেক্কা’ ও ‘বহুরূপী’র মতো ছবি অসাধারণ, কিন্তু ‘বিনোদিনী’ দেখে তিনি সময় নষ্ট করতে চাননি। আর সেখানেই প্রশ্ন ওঠে—এই ইচ্ছের পেছনে শুধুই গল্প বা নির্মাণের মান, না কি ছবির মুখ রুক্মিণী মৈত্র? তিনি সরাসরি বলেন, “রুক্মিণীকে নিয়ে ছবি করলেই যে হিট হবে বা সে সুপারস্টার হয়ে গেল, এমন নয়।” অর্থাৎ, ছবির সাফল্যের কৃতিত্ব রুক্মিণীকে দিতে নারাজ তিনি। এমন মন্তব্য সরাসরি একজন অভিনেত্রীর কৃতিত্বকে খাটো করার নামান্তর নয় কি?

“বিনোদিনী দেখে সময় নষ্ট করব না!” এই বক্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—এত বড় একজন থিয়েটার ব্যক্তিত্ব কেন উপেক্ষা করলেন এমন একটি ছবি, যার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলা থিয়েটারেরই এক কিংবদন্তি নারী চরিত্র? রুক্মিণী মৈত্র এই ছবিতে ‘বিনোদিনী’র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রশংসা কুড়িয়েছেন, এমনটাই দাবি টিমের। কিন্তু সুজয়ের মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি রুক্মিণীর কাজকে মূল্য দিতে নারাজ। বলেই ফেলেছেন, “দেখিনি, দেখতে ইচ্ছে করেনি।”

আরও পড়ুনঃ নিজের জন্ম পরিচয় অস্বীকার করল ফুলকি! হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে কাছে পেয়ে দূরে ঠেলে দিল বড় রাণী!

শুধু তাই নয়, ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্যকেও খাটো করে বলেছেন, “রুক্মিণীকে নিয়ে একটা ছবি ভালো করল মানেই পরের ছবিও চলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।” সুজয়ের এই উক্তি শুধু রুক্মিণী মৈত্র নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির স্টার-মেকিং মডেলকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জনপ্রিয়তা এবং বক্স অফিসে একটি হিট হওয়া ছবির ভিত্তিতে অনেকে ‘সুপারস্টার’ তকমা পেয়ে যাচ্ছেন, সুজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—এই তকমা খুব ঠুনকো। তার মতে, গল্প, চিত্রনাট্য, চরিত্রের গভীরতা এবং অভিনেতার আত্মস্থতা না থাকলে কেবল ফ্ল্যাশি মার্কেটিং দিয়ে কেরিয়ার গড়ে ওঠে না।

Back to top button