‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’ থেকে ‘সোজা বদলি করে দেব!’— ক্ষমতার অহংকারের টগবগ করে ফুটছে কাঞ্চন! রাজনীতিতে অভিনেতাদের দাদাগিরি নতুন ট্র্যাডিশন! দাবি দর্শকদের
পশ্চিমবঙ্গে আবারও অভিনেতা-রাজনীতিকের নাম জড়াল বিতর্কে। ফের শিরোনামে উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ‘কাঞ্চন মল্লিক’ (Kanchan Mullick)। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক চিকিৎসককে প্রকাশ্যে বদলির হুমকি! স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের তরফে অভিযোগ, আউটডোরে উপস্থিত রোগীদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কাঞ্চন চিকিৎসককে হুমকির সুরে বললেন, “বদলি করে দেব তোকে।” এমন আচরণ দেখে কার্যত স্তম্ভিত রোগী ও অন্যান্য কর্মীরা। ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন?
জানা গেছে, বুধবার সকালেই স্ত্রী এবং দিদাকে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে হাজির হন কাঞ্চন। সেই সময় রোগীর সংখ্যা ছিল অনেক। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিধায়ককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। অভিযোগ, এরপরই মেজাজ হারান কাঞ্চন মল্লিক। একদিকে প্রশ্নবাণ, অন্যদিকে আচরণে প্রকাশ্য ঔদ্ধত্য। চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তুই কে রে? বদলি করে দেব তোকে।” উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে, অবশেষে বিদায় নেন বিধায়ক।
নিন্দুকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অভিনেতা-রাজনীতিকদের এই দাদাগিরির ট্র্যাডিশনটা নতুন কিছু নয়। ক’বছর আগেই সংবাদ শিরোনামে ছিলেন তাপস পাল। ২০১৬ সালে নাকাশিপাড়ার সভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব, রেপ করে চলে যাবে।” আজ কাঞ্চন বলছেন, “বদলি করে দেব তোকে।” একজন প্রয়াত, আরেকজন বর্তমান—কিন্তু মেজাজে, ভাষায়, গায়ে পড়া ক্ষমতার প্রক্ষেপণে যেন দুই ধারার একই স্রোত! অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া মানেই কি মানুষের প্রতি অহংকারের লাইসেন্স? জনপ্রতিনিধি মানে কি অপমান করার অধিকার?
এই ঘটনা এক ভয়ঙ্কর প্রবণতার দিকেই আমাদের চোখ ফেরায়। যখন কেউ রাজনীতির মঞ্চে পা রাখেন তাও আবার ‘সেলিব্রিটি’ তকমা নিয়ে, তখন তাঁদের কাছ থেকে আশা করা হয় সহনশীলতা, সংযম, এবং দায়িত্বশীল আচরণ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা-রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে যেন সেই প্রত্যাশার বদলে আমরা পাচ্ছি দাদাগিরি, ক্ষমতার দম্ভ আর কথার চোখ রাঙানো। তাপস পালের ঘটনার পর ক’টা বছরই বা কেটেছে? আর এখন কাঞ্চনের ‘বদলি’ সুর। দুটি ঘটনা ভিন্ন হলেও, মূল সুরে মিল একটাই—ক্ষমতা যখন মুখের ভাষা ঠিক করে দেয়।
আরও পড়ুনঃ দিদির মাথায় ছায়ার মত রয়েছে ছোট্ট বন স্রোত! মিঠিঝোরা ধারাবাহিকে স্রোতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শক!
অন্যদিকে কাঞ্চন মল্লিক নিজে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দাবি করেছেন, তিনি কাউকে ধাক্কা দেননি, গায়ে হাত তোলেননি। এমনকি তাঁর সাফাই, শুধু প্রশ্ন করেছিলেন চিকিৎসককে। কিন্তু চিকিৎসকের মন্তব্যে নাকি তাঁর ‘আত্মসম্মান’ ক্ষুণ্ণ হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, চিকিৎসকই প্রথমে খারাপ ব্যবহার করেন। তবে কাঞ্চনের যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। কারণ একজন দায়িত্বশীল বিধায়কের কাছ থেকে এমন আচরণ, এমন প্রকাশ্য হুমকি—যা ক্যামেরায় না ধরা পড়লেও, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

