চাকরি বা নিজস্ব জীবন নয়, সংসার সন্তান আর স্বামীর চাহিদা পূরণই মেয়েদের জীবনের মূল লক্ষ্য- বুঝিয়ে দিল মিঠিঝোরা! ধারাবাহিকের অন্তিমে রাইয়ের পরিণতিতে হতাশ দর্শক!

ধারাবাহিক (Bengali Serial) হলো সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম রসদ। ধারাবাহিক না থাকলে বিনোদন জগতের (Entertenment) একটা বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ বাড়ির মা, কাকিমারা সারাদিন কাজকর্ম করার পর সন্ধ্যাবেলা থেকেই ধারাবাহিক গুলি দেখার জন্য টেলিভিশনের সামনে বসেন। তাই ধারাবাহিক বিনোদন জগতের একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এই ধারাবাহিক জগতের একটি অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক হলে জি বাংলার (Zee Bangla) ‘মিঠিঝোরা’ (Mithijhora) ধারাবাহিক।

ধারাবাহিকটি দীর্ঘ ২ বছর ধরে টেলিভিশনের পর্দায় চলছে। মাঝে অনেকবার ধারাবাহিক শেষ হয়ে যাওয়ার খবর শোনা গিয়েছিল। যদিও সেই খবর মিথ্যে করে দিয়ে ধারাবাহিক রমরমিয়ে চলেছে টেলিভিশনের পর্দায়। তবে এইবার সত্যি শেষ হতে চলেছে ধারাবাহিকটি, তেমনটাই জানা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখলে।

তবে ধারাবাহিকটিকে নিয়ে দর্শকদের মনে একরাশ বিরক্তি আর অভিযোগ জমেছে। বিশেষ করে রাইয়ের চরিত্রটিকে নিয়ে দর্শকের অনেক অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিকের শুরুতে রাইয়ের চরিত্রটি দর্শকের ভীষণ পছন্দের ছিল। বাবা মারা যাবার পর রাই তার পরিবারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। এমনকি নিজের কথা না ভেবে নিজের ভালোবাসার মানুষকে বোনের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারপর চাকরি করে গোটা সংসারে দায়িত্ব সামলেছে।

তারপর অনেক ঝড় ঝাপটা বাধা-বিপত্তি এসেছে পরিবারের তরফ থেকে। অনেক লাঞ্ছনা অপমান সহ্য করতে হয়েছে রাইকে। নিজের বোন ভুল বুঝেছে, মা ভুল বুঝেছে তা সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ব থেকে পিছু হটেনি সে। নিজের জেদ বজায় রেখে চাকরি করে গোটা সংসার সামলেছে। তারপরে রাইয়ের জীবনে আসে অনির্বাণ। অনির্বাণের সাথে নানা ঝামেলা ঝগড়া সব কিছুর পরে তাদের বিয়েও হয়। তারপরে অনেক বাধা বিপত্তি এসেছে তার জীবনে। কিন্তু নিজের স্বাধীন চিন্তাধারা ছাড়েনি রাই। পরিবারকে ভালো রাখার জন্য নিজের চাকরি চালিয়ে গিয়েছে, সবকিছুর বিরুদ্ধে গিয়েও রোজগারের পথ বন্ধ করেনি। কিন্তু যেদিন থেকে রাইয়ের সন্তান নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছে সেদিন থেকে রাইয়ের চরিত্রে বিপুল পরিবর্তন এসেছে।

যখন রাইয়ের প্রেগন্যান্সি নিয়ে নানান সমস্যা সামনে এসেছে তখন থেকে রাই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। চাকরিবাকরি সব ছেড়ে দিয়ে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল সন্তানের জন্ম দেওয়া, সংসার সামলানো। সেদিন থেকেই গল্পে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। সেই একঘেয়ে গল্পই দেখানো হয়েছে ধারাবাহিকে। সংসার সন্তান স্বামীর সবকিছু নিয়েই মেতে উঠেছিল রাই। সেই পুরনো একঘেয়ে গল্প শুরু হয়েছিল রায়ের জীবনে। যেটা দর্শক একেবারেই পছন্দ করেননি। শুরু থেকে রাই যেভাবে নিজের জন্য পরিবারের জন্য লড়াই করেছে, চাকরি করেছে, স্বাধীনভাবে বাঁচার চেষ্টা করেছে সেটা যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে ধারাবাহিকে। আর ধারাবাহিকের শেষ কয়েকটি পর্ব দেখে দর্শকদের ধারাবাহিকটির প্রতি আক্রোশ জন্মেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘এযে ভীষ্ম নারী…তীর তো কম পড়ে গেছে, আর কটা গুঁজলে ভালো হতো না?’ তুমুল সমালোচনার জোয়ারে রাঙামতি তীরন্দাজ!

এতদিন ধরে এতগুলো মাস ধরে ধারাবাহিকটিকে দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এই ধারাবাহিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ছায়া পড়েছে। এই ধারাবাহিক বুঝিয়ে দিচ্ছে একটি মেয়ের কাছে তার জীবনে নিজস্ব স্বপ্ন নিজস্ব চাহিদার থেকেও অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বামীর চাহিদা পূরণ সংসার প্রতিপালন এবং শাশুড়িকে খুশি রাখা। ধারাবাহিকের কল্পনা জগতের মধ্যে দিয়ে বহু দর্শক ঘরণী তাদের ইচ্ছা গুলোকে পূরণ হতে দেখতে চায়। তারা চায় তাদের নিজেদের জীবনে সেই জিনিসগুলো না ঘটলেও কল্পনা জগতে ধারাবাহিক গুলিতে যেন সেগুলি ঘটে। সেই আনন্দটুকু জানো তারা প্রত্যেকদিন ধারাবাহিক থেকে নিতে পারে। কিন্তু সেই রাস্তা বন্ধ করে সেই পুরুষতান্ত্রিকতাই বজায় রেখেছে জি বাংলার এই ধারাবাহিক। অন্তিম পর্যায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মিঠিঝোরা। এই পর্যায়ে এসেও এখনো সেই একই জিনিস চলছে ধারাবাহিকের পর্দায়।

Back to top button